৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন পরিকল্পনা, এনভিডিয়ার পাশে কারা?

স্টাফ রিপোর্টার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোয় বিনিয়োগের জন্য অন্তত ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে এনভিডিয়া ও ওয়াল স্ট্রিটের কয়েকটি বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সোমবার (১০ আগস্ট) এই ঘোষণা দেওয়া হলেও মূলধন সংগ্রহের জন্য সময়সীমা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এই ঘোষণার মাধ্যমে এআই সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ আরও জোরালো হয়েছে।

এনভিডিয়া জানায়, এ অংশীদারত্বে গোল্ডম্যান স্যাকস এবং অ্যাপোলো, ব্ল্যাকরক ও কেকেআরের মতো বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন সংগ্রহের সময়সীমা সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই অর্থায়নের প্রতিশ্রুতির জন্য তিনি শুধু ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাদের কেউই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেনি।

এদিকে, মূলধন সংগ্রহের ঘোষণার পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ‘নেমোট্রন ৩.৫ লাইটনিং’ নামে হালকা ও কাস্টমাইজযোগ্য একটি ওপেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল উন্মোচন করেছে এনভিডিয়া। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টগুলোর উচ্চমাত্রার কাজ পরিচালনার জন্য মডেলটি তৈরি করা হয়েছে।

জানা গেছে, মডেলটিতে ‘মিক্স-অব-এক্সপার্টস’ (মোয়ি) আর্কিটেকচার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মোট ৩০ বিলিয়ন প্যারামিটার থাকলেও কাজের সময় মাত্র ৩ বিলিয়ন প্যারামিটার সক্রিয় থাকে। ফলে মডেলটি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা কম লাগে।

এনভিডিয়ার অফিসিয়াল মডেল ডকুমেন্টেশন অনুযায়ী, কোম্পানির ডিজিএক্স স্পার্ক বা এইচ১০০-এর মতো সমর্থিত একটি গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) সিস্টেমেই ‘নেমোট্রন ৩.৫ লাইটনিং’ চালানো যায়। মডেলটির কনটেক্সট উইন্ডো সর্বোচ্চ ১০ লাখ টোকেন পর্যন্ত।

জানা গেছে, বড় এআই এজেন্ট সিস্টেমের মধ্যে কোড পর্যালোচনা, বিভিন্ন টুল ব্যবহার, নিরাপত্তা সতর্কতা পর্যবেক্ষণ এবং গ্রাহকের বিলসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো কাজে মডেলটি ব্যবহার করা যাবে।

এনভিডিয়া জানিয়েছে, কোম্পানির বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় একই শ্রেণির অন্যান্য ওপেন মডেলের তুলনায় ‘নেমোট্রন ৩.৫ লাইটনিং’ সর্বোচ্চ চার গুণ দ্রুত আউটপুট দিতে পারে এবং এজেন্টভিত্তিক কাজ ৩০ শতাংশ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে এআই কম্পিউটিং সক্ষমতার বাড়তি চাহিদা কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে, তা স্পষ্ট হয়েছে। এআই দিয়ে বিভিন্ন কাজ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিভিন্ন দেশের সরকার, বড় কোম্পানি ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান। এমন প্রতিযোগিতার মধ্যেই এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনায় ব্যবহৃত চিপ সিস্টেম সরবরাহে এনভিডিয়াই এখন পর্যন্ত শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। অ্যামাজন, গুগল, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো ক্লাউড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এআই ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসিকে বলেন, নতুন এই তহবিল এআই গবেষণাগার ও স্টার্টআপগুলোর জন্য উপকারী হতে পারে।

এছাড়া, এনভিডিয়া নিজেও বেশ কয়েকটি এআই প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি বিনিয়োগ করেছে। পরবর্তীতে এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি সেই বিনিয়োগের অর্থ ব্যবহার করে এনভিডিয়ার প্রযুক্তি কিনেছে। এ ধরনের পারস্পরিক লেনদেন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু বিনিয়োগকারী।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুয়াং জানান, ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রতি গিগাওয়াট (জিডব্লিউ) বিদ্যুৎ ব্যবহারের সক্ষমতার জন্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ব্ল্যাকরকের প্রধান ল্যারি ফিঙ্ক বলেন, বর্তমান হিসাব অনুযায়ী শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই এআই ডেটা সেন্টারের জন্য ৭০ গিগাওয়াটের বেশি সক্ষমতা প্রয়োজন হবে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড সলোমন স্বীকার করেছেন যে, এআই উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় কিছু প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে আবার কেউ কেউ ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে, অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, কম্পিউটিং সক্ষমতা ভবিষ্যতে একটি প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগ খাতে পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *