বাংলাদেশে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সরাসরি বিনিয়োগ আনার সম্ভাবনা
সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক বৈশ্বিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম প্লাগ অ্যান্ড প্লে’র মাধ্যমে বাংলাদেশে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি অংশীদারত্ব, স্টার্টআপ উন্নয়ন ও উদ্ভাবন সহযোগিতারও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে প্লাগ অ্যান্ড প্লে’র সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন পরিবেশ শক্তিশালী করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক করপোরেশন ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার ও প্লাগ অ্যান্ড প্লে’র প্রতিনিধিরা সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সমঝোতা দলিলে সই করেন। এর আওতায় বাংলাদেশে এক বা একাধিক এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।
বৈঠকের পর প্লাগ অ্যান্ড প্লে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রস্তাব দেয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক করপোরেশন, বিনিয়োগকারী, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন অংশীদারদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি এফডিআই আনার সম্ভাব্য পথ তুলে ধরা হয়।
প্রস্তাবে বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর জনশক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়, হাই-টেক পার্ক, শিল্প সক্ষমতা এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো বাংলাদেশ টেক সেন্টার এবং একটি এআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি দক্ষ জনশক্তিকে বৈশ্বিক করপোরেশন এবং বিনিয়োগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও এআই, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধশিল্প, উন্নত উৎপাদন এবং সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষা ও প্যাকেজিং খাতকে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্টার্টআপ ও ভেঞ্চার অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা এবং বহুজাতিক প্রযুক্তি ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে কার্যক্রম স্থাপনে আকৃষ্ট করার মাধ্যমে বিনিয়োগ আনার বিভিন্ন পথও প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগকে বাস্তব ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রকল্পে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিনিধি দল বলেছে, বিনিয়োগের পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও রপ্তানি সুযোগ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার মতো প্রকল্পে জোর দিতে হবে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা-২ কামরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ মো. জাহিদুল ইসলাম।
এ ছাড়া বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল অংশ নেন।
সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল প্লাগ অ্যান্ড প্লে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
তবে প্রস্তাবে উল্লেখিত ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের অঙ্কটি সম্ভাব্য এফডিআইয়ের পরিমাণ, এটি কোনো প্রতিশ্রুত বা চূড়ান্ত বিনিয়োগ নয়। পরবর্তী আলোচনা, যথাযথ যাচাই-বাছাই, অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ও প্রকল্প চূড়ান্ত হবে।
