‘ডি-থ্রি ট্রফি’র আয় ভাগাভাগিকরবে বিসিবি, সাশ্রয় ১২ কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তিন ফরম্যাটকে একই ছাতার নিচে এনে নতুন এই প্রতিযোগিতার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডি-থ্রি ট্রফি’। ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশগ্রহণে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটকে এক কাঠামোয় নিয়ে এসে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক মডেল চালুর পথে হাঁটছে বিসিবি।

নতুন এই আয়োজন শুধু মাঠের ক্রিকেটেই পরিবর্তন আনছে না, এর আর্থিক কাঠামোতেও থাকছে নতুনত্ব। টুর্নামেন্ট থেকে বিসিবির অর্জিত মোট রাজস্বের ৫০ শতাংশ দলগুলোর সঙ্গে ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল।

তামিম বলেন, টিকিট বিক্রি, টেলিভিশন স্বত্ব, টাইটেল স্পনসরশিপ, গ্রাউন্ড রাইটসসহ টুর্নামেন্ট থেকে যে ধরনের রাজস্বই আসুক, তার অর্ধেক দলগুলোর সঙ্গে ভাগ করা হবে। তবে এটি মুনাফা নয়, মোট রাজস্বের ভিত্তিতেই ভাগাভাগি হবে।

তামিম ইকবালের ভাষায়, ‘বিসিবি যা রেভিনিউ করবে, তার ৫০ শতাংশ আমরা টিম ওনারদের সঙ্গে শেয়ার করব। টিকিটিং রাইটস, টিভি রাইটস, টাইটেল স্পনসরশিপ, গ্রাউন্ড রাইটস যে খাত থেকেই রাজস্ব আসুক, ৫০-৫০ ভাগ হবে।’

 

নতুন কাঠামোর আর্থিক সুবিধার দিকটিও তুলে ধরেছেন বিসিবি সভাপতি। তার দাবি, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অংশগ্রহণের কারণে প্রতি বছর বিসিবির প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

প্রতিটি দল বছরে প্রতি বছর আড়াই কোটি টাকা করে ৩ বছরে মোট সাড়ে সাত কোটি টাকা দিবে বিসিবিকে। তামিমের হিসাবে, প্রথম বছরে আয়োজনের নানা খরচের কারণে ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে এই কাঠামো থেকে বিসিবির সাশ্রয় বাড়বে।

বিসিবি বস বলেন, ‘প্রথম বছর হয়তো কিছু খরচ বেশি হবে, কারণ অনেক ইভেন্ট করতে হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছর থেকে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার মতো বিসিবির সেভ হবে। কারণ ছয়জন টিম ওনার এখানে এসেছে।’

বিসিবি সভাপতি আরও জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামো না থাকলেও এই প্রতিযোগিতাগুলো প্রতিবছর আয়োজন করত বোর্ড। তবে নতুন ব্যবস্থায় দলগুলোর বিনিয়োগের কারণে বোর্ডের আর্থিক চাপ কমবে।

ডি-থ্রি ট্রফির ছয় দলের মধ্যে চারটির সঙ্গে বিসিবির পরিচালকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এতে স্বার্থের সংঘাত বা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ তৈরি হবে কি না, এমন প্রশ্নও উঠেছে।

জবাবে তামিম ইকবাল বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান। তার মতে, সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বিনিয়োগ করছেন।

তামিম বলেন, ‘উনাদের বড়-বড় কোম্পানি রয়েছে, এগুলো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি। তাদের ক্রিকেটে বিনিয়োগের বিষয়টিকে আমাদের সম্মান করা উচিত। বিশেষ করে তারা যেখানে বিনিয়োগ করছেন, সেটি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট।’

 

ঢাকা লিগেও বোর্ড পরিচালকদের সম্পৃক্ততার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিষয়টি নতুন কিছু নয়। বিসিবির গঠনতন্ত্রে এ ধরনের সম্পৃক্ততার সুযোগ থাকায় এটিকে ভিন্নভাবে না দেখে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

আগামী ১৫ ডিসেম্বর বরিশাল স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ডি-থ্রি ট্রফি। টুর্নামেন্টের কিছু ম্যাচ মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন এই প্রতিযোগিতাকে শুধু ক্রিকেটীয় আয়োজন হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না বিসিবি। দর্শক আকর্ষণে বিভিন্ন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বোর্ডের। বিশেষ করে বরিশাল পর্বকে বড় একটি ইভেন্ট হিসেবে তুলে ধরতে চান তামিম।

বিসিবি সভাপতি বলেন, বরিশালে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন থাকবে। তামিম বলেন, ‘বরিশালে আমরা অনেক ধরনের ইভেন্ট করব। বরিশালে খেলা হওয়াটাই একটা ইভেন্ট। প্রথমবারের মতো এত বড় টুর্নামেন্ট সেখানে হচ্ছে।’

মাত্র তিন মাসের পুরোনো বোর্ডের অধীনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ডি-থ্রি ট্রফির পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও জানান বিসিবি সভাপতি। দলগুলোর ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় দ্রুতই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে এগোনো সম্ভব হয়েছে বলে তার দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *