জাপানে কর্মী সংকট: বাড়ছে বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা
জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও কর্মীসংকটের মধ্যে জাপানে বসবাসকারী বিদেশির সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জুনের শেষ নাগাদ দেশটিতে স্বল্পমেয়াদি পর্যটক ছাড়া বিদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ লাখ ৮০ হাজারে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাপানের অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বছরের শেষ নাগাদ জাপানে বসবাসকারী বিদেশির তুলনায় এ সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার বেশি। সরকারি জনসংখ্যার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বিদেশি।
জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে জন্মহার কমে যাওয়ায় মোট জনসংখ্যা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে দেশটির।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ তোশিহিরো মেনজু বলেন, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী থেকে শুরু করে সেবাখাতের কর্মী—সব পর্যায়েই জাপানে শ্রমিকের সংকট রয়েছে। প্রতিবছর দেশটির জনসংখ্যা ৯ লাখের বেশি কমছে। ফলে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভর করা ছাড়া সরকারের সামনে খুব বেশি বিকল্প নেই।
এ অবস্থায় বিদেশি বাসিন্দাদের সহায়তায় একটি সমন্বিত নীতি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাপানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তবে দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়তে থাকায় সরকার বিদেশিদের জন্য নিয়মকানুন আরও কঠোর করছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বিদেশিদের বিষয়ে কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চলতি মাসে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মও কঠোর করা হয়েছে। নতুন নিয়মে বিদেশিদের আগের তুলনায় বেশি বার্ষিক আয় এবং জাপানি ভাষায় আরও ভালো দক্ষতা থাকতে হবে।
অভিবাসনবিরোধী মনোভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে দেশটির রাজনীতিতেও। নিজেদের ‘জাপান-প্রথম’ নীতির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়া সানসেইতো দলটি গত বছরের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। দলটি অভিবাসনকে ‘নীরব আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিদেশিদের নিয়ে নানা দাবি ছড়াচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, বিদেশিরা সরকারি কল্যাণ ভাতার বড় অংশ পেয়ে থাকেন এবং তাদের কারণে জাপানের রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা কমছে।
বিশেষজ্ঞ মেনজুর মতে, নতুন বিধিনিষেধের প্রভাব বিদেশিদের জাপানে বসবাসের সিদ্ধান্তে পড়তে শুরু করে থাকতে পারে। গত এক বছরে দেশটিতে বিদেশির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ। এর আগের বছর এই বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার।
তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া কঠিন হয়ে গেলে বিদেশিরা দীর্ঘমেয়াদে জাপানে থাকার আগ্রহ হারাতে পারেন। এ ছাড়া ইয়েনের দুর্বল বিনিময়মূল্য ও তুলনামূলক কম বেতনও বিদেশি কর্মীদের জাপানে আসার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তারপরও শ্রমিকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে ২০৪০-এর দশকে জাপানে বিদেশির সংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করেন মেনজু।
এদিকে, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করা বিদেশির সংখ্যা কমেছে। গত ১ জুলাই পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার, যা বছরের শুরুতে থাকা সংখ্যার তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কম।
