আমিরাতের সহযোগিতায় ইসরায়েল—নেপথ্যের চিত্র কী?
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান প্রায় সব সংঘাতেই ইসরায়িলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। গাজায় গণহত্যাসহ হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। তবে, এসব যুদ্ধের মধ্যেও অস্ত্র রপ্তানি কমেনি, বরং বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
গত পাঁচ বছরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। আর সে অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
‘ডিফেন্স ডিভিডেন্ডস অব দ্য আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৮৩০ কোটি ডলার। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সে আয় বেড়ে ২০২৫ সালে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলারে।
আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো। এ তিন দেশই ইসরায়েলের অস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হয়ে উঠেছে। তবে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কিনেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
২০২২ সালে ইসরায়েলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস আমিরাতের কাছে মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্পাইডার এমআর বিক্রি করে। একই বছর এলবিট সিস্টেমস ও ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজসহ (আইএআই) আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমিরাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি রপ্তানি করে।
শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই দুই পক্ষের সম্পর্ক সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিরক্ষা খাতেও তাদের সহযোগিতা বাড়ছে। আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ইডিজিই ইসরায়েলের অন্তত আটটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছে।
এছাড়া, দুই পক্ষের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আমিরাতের ওপর ইরানের হামলার পর ইসরায়েল ও আমিরাতের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
এছাড়া, আমিরাতে ইসরায়েলের কয়েকটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কার্যালয় খুলেছে। এখন দুই পক্ষের সহযোগিতা শুধু অস্ত্র কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নেই। নতুন অস্ত্রপ্রযুক্তি তৈরি ও গবেষণাতেও তারা একসঙ্গে কাজ করছে।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
