একহালি গোল দিয়ে বলিভিয়াকে উড়িয়ে দিলো আর্জেন্টিনা

স্টাফ রিপোর্টার

লিওনেল মেসি বিদায় নেবেন। এরই মধ্যে বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন। তবে, আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন তাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাবেন বলে বেনিনের বিপক্ষে খেলতে অনুরোধ জানিয়েছেন। যে কারণে তিনি খেলবেন সেই বিদায়ী ম্যাচে।

মেসি ছাড়া কেমন হবে আর্জেন্টিনা? এ নিয়ে জ্বল্পনার শেষ নেই। মূলতঃ মেসিছাড়া আর্জেন্টিনা কেমন হতে পারে, তার একটি দারুণ প্রদর্শনী করে দেখালো লাউতারো মার্টিনেজ, নিকো পাজ এবং ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোরা। কর্দোভার মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে মেসি ছাড়া আর্জেন্টিনার আক্রমনের ধার মোটেও কম ছিল না। সফরকারী বলিভিয়াকে একতরফা ম্যাচে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচজুড়ে দাপট দেখিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে বলিভিয়ার ওপর চাপ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। প্রথম ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের অর্ধেই বেশির ভাগ সময় খেলা হয়েছে। তবে শুরুতে আক্রমণগুলো থেকে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না আর্জেন্টিনা।১৯ মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। দারুণ দলীয় সমন্বয়ের পর লাউতারো মার্তিনেজ নিচু শটে বলিভিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। ডান পায়ের নেওয়া তার শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না বলিভিয়ার গোলরক্ষকের।

গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নিকো পাজ। এজেকুয়েল পালাসিওসের অসাধারণ পাস থেকে বল পেয়ে বলিভিয়ার গোলরক্ষক এগিয়ে এলে তাকে চিপ করে বল জালে পাঠান কোমোর এই ফরোয়ার্ড। তাতে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আর্জেন্টিনার দাপট অব্যাহত থাকে। বিরতির পর কোনো পরিবর্তন ছাড়াই মাঠে নামে দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটেই আর্জেন্টিনার ব্যবধান ৩-০ করেন ক্রিস্তিয়ান ‘কুটি’ রোমেরো।

নিকো পাজের নেওয়া দুর্দান্ত কর্নার থেকে হেডে গোল করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তার গোলে ম্যাচ কার্যত আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

এরপর একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন স্কালোনি। দ্বিতীয়ার্ধের ১১ মিনিটে ফ্রাঙ্কো মাসতানতুয়ানো, ভ্যালেন্তিন বারকো ও লিওনার্দো বালের্দি মাঠে নামেন। তারা বদলি হিসেবে আসেন কুটি রোমেরো, নিকো পাজ ও জিয়ানলুকা প্রেতিয়াস্তানির জায়গায়।

এরপর আরও তিনটি পরিবর্তন করে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের ২৯ মিনিটে একুই ফের্নান্দেস, হোসে লোপেস ও সান্তিয়াগো সিমোন মাঠে নামেন। তারা জায়গা নেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লাউতারো মার্তিনেজ ও অগুস্তিন গিয়াইয়ের।

ম্যাচের শেষ দিকে আরও দুটি পরিবর্তন করেন স্কালোনি। দ্বিতীয়ার্ধের ৩৫ মিনিটে ভ্যালেন্তিন গোমেস মাঠে নামেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বদলে। একই সময়ে লিওনেল ফ্লোরেস মাঠে আসেন এক্সেকিয়েল পালাসিওসের জায়গায়। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের সব পরিবর্তন ব্যবহার করে ফেলে আর্জেন্টিনা।

তবে বদলি হিসেবে নামা হোসে লোপেসই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের স্কোরলাইন আরও বড় করেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৪১ মিনিটে বলিভিয়ার জালে বল পাঠিয়ে আর্জেন্টিনার চতুর্থ গোল করেন তিনি।

সম্প্রতি মাঠে নামা ‘ফ্লাকো’ লোপেস সুযোগ বুঝে বল জালে ঠেলে দেন। তার গোলে আর্জেন্টিনার জয় আরও বড় হয়। পুরো ম্যাচেই বলিভিয়ার তুলনায় আর্জেন্টিনাকে অনেক বেশি সংগঠিত ও কার্যকর দেখা গেছে।

লিওনেল মেসির অনুপস্থিতিতে কুটি রোমেরো অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেন। আর্জেন্টিনার একাদশে রোমান ভেগা ও জিয়ানলুকা প্রেতিয়াস্তিনির অন্তর্ভুক্তিও ছিল উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেজ, নিকো পাজ, কুটি রোমেরো ও হোসে লোপেসের গোলে বলিভিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পায় স্কালোনির দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *