অস্ট্রেলিয়া ৬০ রানে অলআউট হতো

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাকাই দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার পিচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। মাত্র দুই দিনেই ম্যাচ শেষ হওয়া এবং ১২৫ ওভারে ৩০ উইকেট পতনের পর পিচের চরিত্র নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

রোববার, ২৩ আগস্ট গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে ১০ উইকেট নিয়েছেন অসি পেসার মিচেল স্টার্ক।

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় মাত্র ৬৪ রানে, দ্বিতীয় ইনিংসে তারা গুটিয়ে যায় ৯৫ রানে। একমাত্র ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া করে ২১০ রান, যেখানে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন।

‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’ ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলার সময় ম্যাকাইয়ের এমন বোলিং সহায়ক পিচ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ব্রড। তার মতে, শক্তিশালী সফরকারী দলের বিপক্ষে এমন পিচ অস্ট্রেলিয়ার জন্যই অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ব্রড বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ইনিংসে হারিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে, কিন্তু তাদের নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্টার্ক আবারও দুর্দান্ত ছিল, বল সুইং করিয়েছে। আর পিচে সব জায়গায় বল স্কিড করেছে এবং বাউন্স করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, এ বছর পিচগুলো একেক জায়গায় একেক রকম আচরণ করছে। এর ফলে দলগুলোকে সবসময় স্পিনারদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না।’

অস্ট্রেলিয়ার পিচ প্রস্তুতের কৌশল নিয়েও ব্রডের আপত্তি রয়েছে। তার মতে, কোনো দল যদি মনে করে শক্তির দিক থেকে তাদের দলে ভালো খেলোয়াড় বেশি আছে, প্রতিপক্ষের চেয়ে তারা এগিয়ে, তাহলে তুলনামূলক সমতল পিচেই খেলা উচিত।

ব্রড বলেন, ‘আপনি যদি মনে করেন, খেলোয়াড়ভিত্তিক শক্তিতে আপনি প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো, তাহলে আপনার সমতল পিচে খেলা উচিত। বাংলাদেশ টস জিতে প্রথমে বোলিং করলে অস্ট্রেলিয়াকে ৬০ রানের মধ্যে অলআউট করে বড় বিপদে ফেলতে পারতো।’

ছয়শর ওপর টেস্ট উইকেট নেওয়া ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসারের ভাষায়, ‘পিচে এত বেশি বল স্কিড করেছে ও নড়াচড়া করেছে যে এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করেছিল।’

ম্যাচটি শেষ হয়েছে মাত্র ৭৫০ বল বা ডেলিভারিতে। পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি সম্পন্ন হওয়া চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম টেস্ট।

অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ সাতটি ঘরের মাঠের টেস্টের মধ্যে এটি তৃতীয় ম্যাচ, যা দুই দিনের মধ্যেই শেষ হলো। এর আগে ২০২৫-২৬ অ্যাশেজে পার্থ ও মেলবোর্নেও দ্রুত শেষ হয়েছিল টেস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *