৫ হাজার পারমাণবিক ওয়াহেড তৈরির সক্ষমতা রয়েছে জাপানের, দাবি চীনের

স্টাফ রিপোর্টার

চীন ও জাপানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই জাপানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা নীতিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেইজিং। চীনের সেনাবাহিনীর মুখপত্র পিএলএ ডেইলি এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, জাপানের কাছে এমন পরিমাণ প্লুটোনিয়াম মজুদ রয়েছে যা দিয়ে প্রায় ৫,৫০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ জাপান ৪৪ দশমিক ৪ টন প্লুটোনিয়াম পৃথক করে ফেলেছে। যা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে চীনা সামরিক বিশ্লেষকরা। যদিও জাপান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র না রাখা, না তৈরি করা এবং দেশে প্রবেশ করতে না দেয়া মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তবুও চীনের দাবি, এ নীতির সীমাবদ্ধতা ভেঙে ফেললে খুব অল্প সময়েই জাপান কার্যত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

চীনের অভিযোগ অনুযায়ী, জাপান বেসামরিক প্রযুক্তির আড়ালে পরিকল্পিতভাবে তার প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করছে। ২০২৫ সালে উন্নত প্রযুক্তি সামরিক কাজে রূপান্তরের গবেষণা কর্মসূচিতে রেকর্ড ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইয়েন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ১৮ গুণ বেশি। এছাড়া ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডারপা মডেলের মতো একটি প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন প্রতিষ্ঠান গঠন করেছে টোকিও। যেখানে বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামরিক গবেষণায় যুক্ত করা হচ্ছে।

জাপানের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপও চীনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দেশটি ইতোমধ্যে দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু করেছে এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ উন্নত করেছে। এসব অস্ত্রের পাল্লা চীনের ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের অবস্থান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তবে টোকিও সামরিকভাবে জড়াতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সামরিক শিল্পে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। ২০২৩ অর্থবছরে মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তির পরিমাণ ৪ দশমিক ৬ গুণ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণ করছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে কর্মী সংখ্যা ৪০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

চীনের দাবি, এসব পদক্ষেপ জাপানের ‘শান্তিবাদী নীতি’ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এমনকি তারা সতর্ক করে বলেছে, জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্প ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভবিষ্যতে একটি ‘স্বয়ংক্রিয় সামরিকীকরণ চক্র’ তৈরি করতে পারে। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি তৈরি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *