সুইস ঘড়ি রফতানিতে রেকর্ড

স্টাফ রিপোর্টার

সুইস ঘড়ি রফতানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। জুলাইয়ে অর্থের হিসাবে ঘড়ি রফতানি আট বছরের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। মূল্যবান রোলেক্স, ওমেগা ও ভ্যাচেরন কনস্ট্যানটিনের টাইমপিসের উচ্চ চাহিদা এ রেকর্ড তৈরিতে সহায়তা করেছে। খবর ইয়াহু ফাইন্যান্স।

সম্প্রতি সুইস ওয়াচ ইন্ডাস্ট্রি ফেডারেশন জানিয়েছে, গত মাসে ২২০ কোটি সুইস ফ্রাঁ (২৩০ কোটি ডলার) মূল্যের ঘড়ি রফতানি হয়েছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০১৪ সালের অক্টোবরে রেকর্ড মূল্যের ঘড়ি রফতানির পর এটিই সর্বোচ্চ।

সাম্প্রতিক সময়ে রোলেক্স ও ওমেগা থেকে অডেমারস পিগুয়েট ও প্যাটেক ফিলিপ পর্যন্ত বিলাসবহুল সুইস ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে টাইমপিসগুলোর রফতানি এক বছর আগের তুলনায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর চীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি সুইস ঘড়ি রফতানির জন্য সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় চীনেও বিলাসবহুল ঘড়ির চাহিদা পুনরুদ্ধার হচ্ছে। দেশটির জিরো কভিড নীতি সুইস ঘড়ি রফতানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হিসেবে অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে ফেলেছিল।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং কোম্পানি ভনটোবেলের বিশ্লেষক জন ফিলিপ বার্টশি বলেন, রফতানির পরিসংখ্যান প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো ছিল। যদিও এর আগে তিনি জুলাইয়ে সুইস ঘড়ি রফতানি কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

এদিকে সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে বিলাসবহুল ঘড়ির দাম কমছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে পতন এবং পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীলতার কারণে দাম কমছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এ শিল্পের বাজার প্রসারিত করতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে উচ্চমূল্যের ঘড়িগুলো। সংখ্যার হিসাবে মোট বাজারের এক-তৃতীয়াংশই ৫০০ ফ্রাঁয়ের বেশি মূল্যের ঘড়ির দখলে রয়েছে। যদিও মূল্যের হিসাবে বিলাসবহুল ঘড়ির বাজারের ৯৫ শতাংশই এ ঘড়িগুলোর দখলে।

অন্যদিকে তুলনামূলক মধ্যম দামের ঘড়ির বাজার ছোট হচ্ছে। গত মাসে ২০০-৫০০ ফ্রাঁ মূল্যের ঘড়ির রফতানি ২৯ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। এ দামের ঘড়ি রফতানিতে ২০২০ সালের প্রথম দিকে শুরু হওয়া মন্দা অব্যাহত রয়েছে। তবে ২০০ ফ্রাঁয়ের কম মূল্যের ঘড়ি রফতানি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। সম্ভবত সোয়াচ গ্রুপের ওমেগা মুনসোয়াচ ঘড়ির উচ্চ চাহিদার কারণে এ বিভাগের রফতানি প্রসারিত হয়েছে।

গত মাসে এশিয়া ও ইউরোপের বেশির ভাগ বাজারে সুইস ঘড়ি রফতানিতে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। তবে হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বাজারে রফতানি বাড়ার হার এক অংকের।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বার্নস্টেইনের বিশ্লেষক লুকা সোলকা বলেন, কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিলের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্যের উচ্চ চাহিদা তৈরি হয়। সেই অনুযায়ী, বিলাসবহুল ঘড়ির চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এখনো সে পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিলাসবহুল ঘড়ির চাহিদা কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে চাহিদায় মন্দার বিষয়টি প্রতিফলিত হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। কারণ সুইস ঘড়িগুলো প্রাথমিকভাবে পাইকারি চালানের মাধ্যমে বিক্রি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *