বিজনেস২৪বিডি ডেস্ক »

কখনও মাদক সেবন করে মারধর কখনোবা টাকা চেয়ে না পেয়ে নিজের মাকে মারধর করতেন মিল্লাত হোসেন (২৫)। মাদকাসক্ত ছেলের মারধরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন মা। টাকার জন্য মাকে খুনেরও হুমকি দেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে থানা পুলিশের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন ওই মা।

গত ৭ মে রাজধানীর কলাবাগান থানায় প্রাণভয়ে ছেলের বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন তিনি। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছেন জানিয়ে ভবিষ্যতে ছেলের হাতে খুনের আশঙ্কার কথাও মামলায় উল্লেখ করেছেন ওই মা।

এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় তিনি। মেয়ে পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি করলেও ছেলে মিল্লাত পড়াশোনা করেননি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার পর মাদক সেবন করতে থাকেন। আর এই মাদকের টাকার জন্যই মাকে প্রায়ই মারধর করে আসছিলেন মিল্লাত।

মামলার এজাহারে ওই মা উল্লেখ করেন, মিল্লাত ছোটবেলা থেকেই জেদি ও অনিয়ন্ত্রিত। বেয়ারা মিল্লাত অষ্টম শ্রেণিতেই পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে সঙ্গ দোষে নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন শুরু করেন। নেশার টাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাকে মারধর করে আসছেন মিল্লাত। বখে যাওয়া ছেলেকে ভালো করতে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তিসহ বহুবার নানা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

গত ৬ মে দিনগত রাত অনুমানিক ১টার দিকে ছেলে মিল্লাত নেশার টাকার জন্য মায়ের উপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে আঘাত করতে থাকেন এবং বাসায় ব্যবহৃত টিভি, ফ্রিজসহ অন্যান্য জিনিস ভাঙচুর করে।

এজাহারে ওই মা বলেন, লাঠির আঘাত আমার মাথায় লাগলে আমি চিৎকার করতে করতে মেঝেতে পড়ে গেলেও আরও কয়েকটা লাথি মারে। তার এলোমেলো লাথিতে আমার মাথায় বাম পাশে কানের উপরে মারাত্মক জখম হয়। সে আমার ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আমাকে মারার চেষ্টা করে। আমার চিৎকারে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন এসে আমাকে রক্ষা করে।

এ সময় সংসারের খরচের নগদ ১১ হাজারের বেশি টাকা এবং মায়ের গলার দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে যান মিল্লাত। এমনকি ভবিষ্যতে নেশা করার পর্যাপ্ত টাকা না দিলে মাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি।

এ ব্যাপারে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ চন্দ্র জানান, আসামি মিল্লাতকে ধরতে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »