বিজনেস২৪বিডি ডেস্ক »

আগামী এপ্রিলে পাকিস্তানের করাচিতে টেস্টের আগে আছে একটি ওয়ানডে ম্যাচ। খুব প্রাসঙ্গিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই একমাত্র ওয়ানডেতে টিম বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন কে?

তার মানে চলে আসছে নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক নিয়োগের প্রশ্ন। এতকাল এ প্রশ্ন আসেনি। কারণ, ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে গত বছরেরর জুলাই মাসে শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ছাড়া একটানা ৫ বছর ৪ মাস ওয়ানডেতে ক্যাপ্টেন্সি করেছেন মাশরাফি। কয়েকমাস আগে শ্রীলঙ্কায় ইনজুরির কারণে একটি মাত্র সিরিজে নেতৃত্ব দিতে পারেননি শুধু মাশরাফি। তিন ম্যাচের ওই সিরিজে তামিম ইকবাল ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করেছে। তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তামিমের দল। একটি ম্যাচেও এতটুকু প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তুলতে পারেনি টাইগাররা। যথাত্রমে ৯১ রান, ৭ উইকেট আর ১২২ রানে পরজিত হয়েছে।

এখন যেহেতু মাশরাফি আর অধিনায়ক নন, তাই নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক মনোনয়ন বা নির্বাচনের প্রশ্ন এসে গেছে সামনে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবার মনে প্রশ্ন, বাংলাদেশ দলের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক হবেন কে?

যেহেতু খেলা এপ্রিলে। এখনো প্রায় তিন সপ্তাহ বাকি। তাই হুট করে যে আজ-কালের মধ্যে অধিনায়ক মনোনয়ন করতে হবে, তাও নয়। তবে একটি বিশেষ কারণে আজ ৮ মার্চ রোববার বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের নাম ঘোষণা হয়ে যেতে পারে।

কারণ আজ দুপুরে (যদিও বলা আছে বেলা ১২ টা থেকে, তবে এসব ক্ষেত্রে লাঞ্চের পরই শুরু হয় বোর্ড সভা) বিসিবি পরিচালক পর্ষদের সভা। ভাবা হচ্ছে সেই সভাতেই জাতীয় দলের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে।

আবার ভাববেন না, নতুন অধিনায়ক মনোনয়নের জন্যই বুঝি আজকের বোর্ড সভা। মোটেও তা নয়। এটা পূর্ব নির্ধারিত বোর্ড সভা। এবং সভার এজেন্ডায়ও নতুন অধিনায়কের কথা বলা নেই। কারণ যখন বোর্ড পরিচালকদের কাছে আজ রোববারের সভার দিনক্ষণ ও এজেন্ডা পাঠানো হয়, তখনো মাশরাফি অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়াননি। বা দাঁড়াবেন এমন পরিষ্কার ইঙ্গিতও মেলেনি।

বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের এক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ‘যেহেতু আজই বোর্ড পরিচালক পর্ষদের সভা, তাই রোববারই হয়ত নতুন অধিনায়ক মনোনয়নের কাজ চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’

সাকিব আল হাসান সাসপেন্ড না থাকলে কোন কথাই ছিল না। আর কোন বিকল্প খুঁজতেও হতো না; কিন্তু সাকিবতো আইসিসি নিষেধাজ্ঞায় পড়ে মাঠের বাইরে।

তাই সাকিবকে এখন মাশরাফির চেয়ারে বসানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে এটা নিশ্চিত করেই বলে দেয়া যায়, নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হয়ে মাঠে ফিরলে সাকিবই হবেন ওয়ানডে অধিনায়ক। এখন যাকেই করা হোক, তিনিও পুরোদস্তুর বা দীর্ঘ মেয়াদের ওয়ানডে ক্যাপ্টেন হবেন না।

যাকেই করা হোক বা দায়িত্ব দেয়া হোক না কেন, তিনি খুব দীর্ঘ সময়ের জন্য দল পরিচালনার সুযোগ পাবেন না। সাকিবের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছয়-সাত মাসের জন্য দায়িত্ব পেতে পারেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে এই সময়ের জন্য ওয়ানডে অধিনায়ক হবেন কে? বোর্ড কি আপাততঃ তিন পরিণত অভিজ্ঞ ও সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম কিংবা তামিম ইকবালের কাউকে বেছে নেবে? নাকি ভবিষ্যতের কথা ভেবে তরুণ কাউকে এখন থেকে দায়িত্ব দিয়ে আগামী দিনের জন্য তৈরি করার পরিকল্পনা করা হবে?

দুটি বিকল্প চিন্তাই নাকি আছে বোর্ড পরিচালকদের মাথায়। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো এখন থেকেই কোন তরুণকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করার পক্ষে। মিডিয়াকে এখনো নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা মুখ ফুটে না বললেও ভিতরে ভিতরে রাসেল ডোমিঙ্গো নাকি তেমন চিন্তাই করছেন।

কোচের মাথায় যে এমন চিন্তা আছে, তার সুক্ষ্ম ইঙ্গিত আছে অধিনায়ক মাশরাফির শেষ প্রেস কনফারেন্সেও। মাশরাফি নতুন অধিনায়ক নির্বাচনে প্রথাগত পথে হেঁটে পুরনো ও অভিজ্ঞ এবং পরিক্ষীত কাউকে দল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আর নতুন কাউকে দিয়ে এখনই পরীক্ষা-নীরিক্ষা না চালানোর পরামর্শও দিয়েছেন।

অবশ্য কোচ যতই নিজের মত করে ভাবেন আর পরিকল্পনা সাজান না কেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে যে রীতি ও নীতি, তাতে কোচের ইচ্ছেয় অধিনায়ক মনোনয়নের সম্ভাবনা খুব কম। বলা যায় শূন্যের কোঠায়। তাই বোর্ড যাকে চাইবে, তিনিই হবেন নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক।

সে ক্ষেত্রে হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো যতই নতুন অধিনায়কের কথা ভাবেন না কেন, কোন তরুণকে এখন মাশরাফির জায়গা দিতে বোর্ডেও আছে আপত্তি। তাই বোর্ড পরিচালকরাও তিন সিনিয়র মুশফিক, তামিম আর রিয়াদের কাউকে দায়িত্ব দেয়ার পক্ষে।

সেক্ষেত্রে ঘুরেফিরে সেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই হতে পারেন সময়ের সম্ভাব্য সেরা বিকল্প। তামিম ইকবালও আছেন বিবেচনায়। তবে শ্রীলঙ্কায় মাশরাফির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পেয়ে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়ায় তার ব্যাপারে বোর্ডের উৎসাহ কম বলে জানা গেছে।

এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত বোর্ড কাকে বেছে নেয়? মাশরাফির খালি চেয়ারে কে বসেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়?

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »