বিজনেস২৪বিডি ডেস্ক »

তিন নেত্রীর লায়ে অপরাধ জগতের রানি হয়ে উঠেছিলেন যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া। স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন কেএমসি বাহিনী।

আওয়ামী লীগের ওই তিন শীর্ষ নেত্রীর আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সমর্থনে ধীরে ধীরে মাফিয়ায় পরিণত হন পাপিয়া।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া ওই তিন নেত্রীর নামও বলেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র।

ওই তিন নেত্রীর একজন হলেন– ঢাকার সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন।

যুব মহিলা লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তুহিনের সঙ্গে পাপিয়ার ঘনিষ্ঠতার কথা প্রকাশ্যেই বলছেন।

যুব মহিলা লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, সাবিনা আক্তারের আশ্রয়–প্রশ্রয়ে ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন পাপিয়া। তার মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরিচিত হন পাপিয়া। এর পর তুহিনের নাম ব্যবহার করে আ’লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন পাপিয়া। তুহিনসহ ক্ষমতাসীন দলের ওই সংসদ সদস্যের পরিচয় দিয়ে নরসিংদীজুড়ে প্রভাব খাটাতেন তিনি।

পাপিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক মো. কায়কোবাদ কাজী গণমাধ্যমকে বলেছেন, যুব মহিলা লীগের শীর্ষস্থানীয় দুই নেত্রী ও ঢাকার একজন সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির নাম-পরিচয় ব্যবহার করেই নরসিংদীর বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও তদবির–বাণিজ্য করেছেন পাপিয়া। এ ছাড়া পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে পাপিয়া ও তার স্বামী কিছু প্রার্থীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নেন। সেই নিয়োগের ব্যাপারে তদবির করেছিলেন ঢাকার সেই সাবেক নারী সংসদ সদস্য।

পাপিয়ার এসব অপকর্মে বারবারই সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তারের কথাই চলে আসছে।

এদিকে জানা গেছে, সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনের প্রভাব খাটিয়ে পাপিয়া নরসিংদীর একটি পোশাক কারখানায় গ্যাস সংযোগ এনে দেয়ার আশ্বাস দেন এবং কারখানা মালিকের কাছ থেকে কোটি টাকা নেন তিনি।

এ ছাড়া নরসিংদীর এক ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেন বলে তথ্য দিয়েছেন পাপিয়া। কিন্তু ওই ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত বিদেশে পাঠাতে পারেননি। এর পর ওই ব্যক্তি টাকা ফেরত চাইলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই ব্যক্তিতে তাড়িয়ে দেন পাপিয়া।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ পাপিয়ার তিন মামলার তদন্ত করছে। তবে পাপিয়া বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ও মামলার তদন্ত করার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে র্যা ব।

তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, সাবেক ওই নারী এমপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন পাপিয়া।

এদিকে পাপিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন। পাপিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে স্বীকারও করেছেন এই নেত্রী।

তবে পাপিয়ার কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এক গণমাধ্যমে তুহিন দাবি করেন, ‘পাপিয়ার সঙ্গে তার সাংগঠনিক সম্পর্কের বাইরে কিছু ছিল না। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে পাপিয়ার সঙ্গে আমাকে জড়ানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মহানগর উত্তরের নেত্রী। রাজনীতির কারণে আমার অনেকের সঙ্গে মিশতে হয়েছে। আমাদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন আছে। সে কারণে দেশের সব জেলার নেত্রীদের সঙ্গেই আমার মিশতে হয়। এখানে পাপিয়াকে আলাদা করে ভাবার কিছু নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৪ মাস ধরে পাপিয়ার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। পাপিয়ার মুখোমুখি হয়ে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে চাই আমি। আমি দলের বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে পাপিয়াকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি এটি সত্য। কিন্তু এটি কি কোনো অপরাধ?’

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল পাপিয়ার সঙ্গে তার ছবিগুলো প্রসঙ্গে তুহিন বলেন, ‘শুধু আমার সঙ্গে কেন, কার সঙ্গে তার ছবি নেই? এমপি-মন্ত্রী থেকে শুরু করে আমাদের পার্টির অনেক নেতার সঙ্গে পাপিয়ার ছবি আছে।’

পাপিয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ছবির বিষয়ে ডিবির (উত্তর) উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেছেন, ‘অনেকের সঙ্গেই পাপিয়া ছবি তুলেছেন, ফোনে কথা বলেছেন। তাই বলে তারা সবাই অপরাধী হবেন, এমনটি নয়। পাপিয়ার অপরাধ কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে কারা, আসল সত্য কী তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।’

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »