বিজনেস২৪বিডি ডেস্ক »

বঙ্গবন্ধু বহুমুখী যমুনা সেতুর পার্শ্ববর্তী বিশাল যমুনা নদীর পূর্বে গা ঘেঁষে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের তিন তারকা বিশেষ জনপ্রিয় এই যমুনা রিসোর্ট (Jamuna Resort) । যা টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার মাঝখানে অবস্থিত।

যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা সময় ছুটি নিতে চাইলে ও মনকে ভালো করার জন্য আপনি পাবেন এখানে বিনোদনের সব ধরনের প্রচেষ্টা। রিসোর্ট অভ্যন্তরে সকল অতিথিদের জন্য আছে জিমনেশিয়াম, বেকারি, স্যুভেনির শপ, হেলথ ক্লাব, ফরেন মানি এক্সচেঞ্জ সহ ইনডোর ও আউটডোর গেমস ব্যবস্থা। আউটডোর গেমসের মধ্যে আছে ফুটবল, ক্রিকেট খেলা ও ইনডোরে আছে ব্যাডমিন্টন, হকি ও দাবা খেলার ব্যবস্থা।

আছে সকলের জন্য নৌভ্রমণে লাইফবোট ও স্প্রিডবোটে সম্পূর্ণ রিসোর্ট ও নদী ঘুরে দেখার সুযোগ। এখানে শীতকালে আগত অতিথি পাখির ঝাঁক দেখলে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে।

অতিথিদের থাকার জন্য আছে মোট ১১০টি রুম যা স্যুইট ও কটেজ ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। আছে রেস্টুরেন্ট ও হল রুম।

কটেজ রুম ও সুবিধা সমূহ
ক্লান্ত অতিথিদের বিশ্রামের জন্য যমুনা রিসোর্টে আছে আধুনিক সুবিধাসহ স্যুইট, কটেজ বা স্টার ক্যাটাগরি ফ্লোর ভিত্তিক আবাসন রুম। এখানে আছে প্রায় ১১০টি বিভিন্ন সাইজের ও বিভিন্ন মানের থাকার রুম।

প্রতিটি রুম সম্পূর্ণ শীততাপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আরও আছে ইন্টারকম টেলিকমের সুবিধা ও ফ্রিজের ব্যবস্থা।

ডিলাক্স রুম

ডিলাক্স রুমে আপনি পাচ্ছেন এসি বিশিষ্ট রুম, টুইন বেড, টিভি, ফ্রিজ ও খাবারের জন্য ডাইনিং একটি টেবিল। যার ভাড়া দৈনিক ৫০০০ টাকা।

এক্সিকিউটিভ স্যুইট

অতিথিদের জন্য এখানে আছে এসিযুক্ত রুম, ডাবল বেড রুম, টিভি, এটাচ বাথরুম ও আধুনিক সরঞ্জাম, বাথরুমে ঠাণ্ডা ও গরম পানির ব্যবস্থা। যার ভাড়া পড়বে প্রতিদিন প্রায় ৬০০০ টাকা।

রয়েল স্যুইট

বিলাসবহুল এই রয়েল স্যুইটে অতিথিরা পাচ্ছে আধুনিক সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। এখানে আপনি পাচ্ছেন লাক্সারি বেড রুম, এসিযুক্ত রুম, ঠাণ্ডা ও গরম পানির সুব্যবস্থা। যার ভাড়া প্রতিদিন ৮০০০ টাকা।

ইম্পেরিয়াল স্যুইট

বিলাসবহুল এই স্যুইটটিতে অতিথিরা পাচ্ছে একাধারে দুইটি লাক্সারি বেড, এসি রুম, টিভি, ঠাণ্ডা ও গরম পানির সুব্যবস্থা। ইম্পেরিয়াল স্যুইটটির ভাড়া দৈনন্দিন প্রায় ৮০০০ টাকা।

টু বেড রুম কটেজ

এখানে আপনি পাবেন বিশালাকার দুইটি এসি বেড রুম, ডাবল ও সিঙ্গেল বেড, টিভি, এটাচ বাথরুমের ব্যবস্থা, ঠাণ্ডা ও গরম পানির সুব্যবস্থা। যারা ভাড়া প্রতিদিন প্রায় ৯০০০ টাকা।

থ্রি বেড রুম কটেজ

এখানে আপনি পাবেন এসিযুক্ত তিনটি বেড রুম, টিভি, প্রতিটি রুমের সাথে এটাচ বাথরুম, বাথরুমে ঠাণ্ডা ও গরম পানির সুব্যবস্থা। যার ভাড়া প্রতিদিনের জন্য প্রায় ৮০০০ টাকা।

এছাড়াও রিসোর্ট কটেজে পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আপনি এক্সট্রা বেড ভাড়া নিতে পারেন মাত্র ৬০০ টাকা করে এবং ডরমিটরি ভাড়া নিতে পারেন মাত্র ৪০০ টাকা করে।

বিভিন্ন উৎসবে প্যাকেজ ব্যবস্থা ও খরচ
যমুনা রিসোর্টের কর্তৃপক্ষ ঈদ, পহেলা বৈশাখ, ইংরেজী বর্ষবরণ, থার্টি ফার্স্ট ডে নাইট সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য প্রতিবছর এখানে আয়োজন করে আসছে এখানে বিভিন্ন মূল্যের উৎসব প্যাকেজ। সারাদিনের প্যাকেজগুলোর সর্বোনিম্ন ভাড়া মাত্র ৪০০০ টাকা।

প্যাকেজের খরচ সমুহঃ

ঈদ প্যাকেজে আসলে জনপ্রতি খরচ পড়বে ৪০০০ টাকা করে। সদস্য সংখ্যা বেঁড়ে দুইজন ও সর্বোচ্চ পনেরো জন হলে খরচ পড়বে ৮০০০ টাকা ও পনেরো জনের জন্য ৬০০০০ টাকা।
পহেলা বৈশাখ প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ ৪০০০ টাকা। এবং সদস্য সংখ্যা আট জনের জন্য খরচ পড়বে প্রায় ৩২০০০ টাকা।

থার্টি ফার্স্ট ডে নাইট প্যাকেজের খরচ জনপ্রতি ৪০০০ টাকা। এবং ১০ জন সদস্যদের জন্য এ প্যাকেজের খরচ পড়বে প্রায় ৪০০০০ টাকা।
কর্পোরেট অনুষ্ঠানে যেকোনো আয়োজন

কর্পোরেট অফিসের যেকোনো মিটিং, পিকনিক, ডিজে পার্টি, গেট টুগেদার অথবা যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য এখানে রয়েছে সর্বোনিম্ন ৫০ জন থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ জনের আয়োজন ব্যবস্থা।

কর্পোরেট প্যাকেজগুলোতে ৫০জন অতিথিদের ভাড়া সর্বনিম্ন ১,৫০,০০০ টাকা, ১০০ জন অতিথিদের জন্য ভাড়া ৩,০০,০০০ টাকা, ২০০ জন অতিথিদের জন্য ৬,০০,০০০ টাকা, ৩০০ জন অতিথিদের জন্য ভাড়া ৯,০০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০০ থেকে ৫০০ জন অতিথি বিশেষের জন্য ভাড়া প্রায় ১২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হবে।

অতিথিরা চাইলে নিজেরা কিংবা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্যে এখানে ডিজে পার্টির সকল আয়োজন করে মেতে উঠতে পারে আপন আনন্দে। সেখানে আছে দর্শনার্থীদের জন্য আলাদা রান্না করার সুব্যবস্থা।

হল রুম

কর্পোরেট অফিসের প্রোগ্রাম, শিক্ষা সফরে আসা দর্শনার্থীদের জন্য যমুনা রিসোর্টে আছে নদীর নামের সাথে মিল রেখে মোট দুইটি হল রুম। যার একটি যমুনা ও অন্যটি ব্রহ্মপুত্র হল। যমুনা হল রুমে অতিথি ধারন ক্ষমতা মোট ২০০ জন যার ভাড়া প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা। এবং ব্রহ্মপুত্র হলে অতিথি ধারন ক্ষমতা ১৫০ জন যার ভাড়া প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা।

বলা বাহুল্য যে, হল রুম বুকিং এর সময় ৮০% টাকা অগ্রিম প্রদান করা লাগে।

বুকিং সিস্টেম
রিসোর্টের রুম বুকিং এবং অগ্রিম রিজার্ভেশনের ক্ষেত্রে সকলের জন্য একই রকম নিয়ম। হেড অফিস থেকে রিসোর্টের রুম বুকিং দিতে হয়।

বলে রাখা ভালো যে, প্রতি বছরের শীতকালে অর্থাৎ নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত রিসোর্টে অতিথিদের ভিড় থাকে অনেক বেশি। তাই এসময়ে বুকিং ও অগ্রিম রিজার্ভেশন দিতে হয় প্রায় ১৫ দিন আগে থেকে।

যোগাযোগ ও ঠিকানা
কর্পোরেট অফিস: যমুনা রিসোর্ট লিমিটেড, কাওরান বাজার, সিএ ভবন প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন (৭ম তলা), ২০-২১ কাওরান বাজার, ঢাকা -১২১৫, বাংলাদেশ।

যেকোনো তথ্য জানতে সরাসরি যোগাযোগ করুন এই নাম্বারে-

মোবাইলঃ 01715-852997, 01819404902, 01715331998, 01715550995
টেলিফোনঃ 09234760324
Email: info@jamunaresort.com

খাবার রেস্টুরেন্ট

আগত অতিথিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রিসোর্টের ভিতরে আছে তাদের নিজস্ব খাবার রেস্টুরেন্ট যেখানে একাধারে প্রায় ১৫০ জন অতিথি একসাথে বসার ধারণক্ষমতা রাখে।

রেস্টুরেন্টে আছে বুফে স্টাইলে অতিথিদের ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনারের ব্যবস্থা। যেখানে লাঞ্চে ও ডিনারে জনপ্রতি খরচ পড়বে প্রায় ৫০০ ও ৫৫০ টাকা।

পেমেন্ট সিস্টেম
ক্যাশ, কার্ড এবং চেকের মাধ্যমে আপনি এ রিসোর্টে সকল ধরনের বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

তবে ক্যাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি টাকা, ডলার, ইউরো, পাউন্ড, রিয়াল সেখানে গ্রহণযোগ্য। এবং কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হচ্ছেঃ

ভিসা কার্ড।
মাষ্টার কার্ড।
ক্রেডিট কার্ড।

রিসোর্টে অন্যান্য সুবিধা

লাইফবোট ও স্প্রিডবোটে পুরো রিসোর্ট পর্যবেক্ষণ যার ভাড়া প্রতি ঘণ্টায় জনপ্রতি ১০০ টাকা ও ১০০০ টাকা।
অতিথিদের জন্য আছে সুইমিংপুলের ব্যবস্থা যার খরচ জনপ্রতি ৩০০ টাকা।

সকলের জন্য উন্মুক্ত হেলথ ক্লাব যার খরচ জনপ্রতি ১০০ টাকা।
ছেলে ও মেয়েদের জন্য আছে আধুনিক সরঞ্জাম সহ জিম ফিটনেস ঘর। যেখানে এন্ট্রি ফি জনপ্রতি ২০০ টাকা।
সকলের জন্য ইনডোর ও আউটডোর গেমসের ব্যবস্থা।
ফরেন মানি এক্সচেঞ্জ এর সুব্যবস্থা।
আছে সকলের জন্য স্যুভেনির শপ।

রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্যবস্থাবলী

সর্বক্ষণ ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও জেনারেটর ব্যবস্থা।
প্রতিটি ফ্লোরে ফায়ার এক্সিটের ব্যবস্থা।
যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা এড়াতে ও অগ্নি নিভানোর পর্যাপ্ত সরঞ্জাম।
রিসোর্টের একদম পাশেই যমুনা শপ নামে একটি বুটিক শপ দোকান আছে।
সাইট সিইং এর ব্যবস্থা বিদ্যমান।

যাওয়ার উপায়
যমুনা রিসোর্ট ঘুরে দেখতে হলে সড়ক পথ অথবা রেলপথ যেকোনো একটিকে আপনি বেঁছে নিতে পারেন। তবে সড়ক পথ দিয়ে গেলে খরচ তুলনা মুলক ভাবে কিছুটা কম পড়বে।

সড়ক পথে যমুনা রিসোর্ট

নিজস্ব ব্যক্তিগত গাড়িতে করে চাইলে খুব সহজে দ্রুত ঘুরে আসতে পারেন বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু সংলগ্ন এই যমুনা রিসোর্ট থেকে।
ঢাকার গাবতলী ও মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে টাঙ্গাইলের যেকোনো বাসে করে আপনাকে প্রথমে পৌঁছাতে হবে ভুঞাপুর উপজেলা গেইট পর্যন্ত। সেখান থেকে সিএনজিতে জনপ্রতি ২৫-৩০ টাকা অথবা রিক্সা বা ভ্যানে করে জনপ্রতি ভাড়া ৩০-৩৫ টাকায় যমুনা সেতু বাজার থেকে এগুলেই আপনি পৌঁছে যাবেন বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু ও যমুনা রিসোর্ট।
রেলপথে যমুনা রিসোর্ট

আপনি চাইলে ট্রেনে ভ্রমন করে যেতে পারেন অপূর্ব সুন্দর এই রিসোর্টটিতে। ঢাকার বিমানবন্দর অথবা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে যাত্রা শুরু করে আপনাকে নামতে হবে সেতুর আগের স্টেশনে। সেখান থেকে চাইলে অল্প কিছুদূর পায়ে হেঁটে অথবা রিক্সায় করে চলে যেতে পারেন যমুনা রিসোর্টে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »