বিজনেস২৪বিডি ডেস্ক »

কুরআনের দিক-নির্দেশনায় হিজাব সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট। হিজাব সব নারীর জন্য অপরিহার্য। সম্প্রতি মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফতোয়া সেন্টার হিজাব ফরজ হওয়া সম্পর্কে পবিত্র কুরআন থেকে ২ টি আয়াতের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপন করেছেন।

কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনায় সব নারীর জন্য হিজাব ফরজ। কুরআনুল কারিমের সুরা নুর ও সুরা আহজাবের ২টি আয়াত দ্বারাই তা সুস্পষ্ট।

সুরা নুরে আল্লাহ তাআলা ঈমানদার নারীদের জানিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে আয়াত নাজিল করে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দেন-

‘(হে রাসুল! আপনি) ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বুকের ওপর ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নারী, অধিকারভুক্ত দাসী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতিত আর কারো সামনে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে চলাফেরা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩১)

মিসরের আন্তর্জাতিক ফতোয়া বিভাগ কুরআনের এ আয়াত দ্বারা এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহর ওহি অনুযায়ী নারীদের জন্য হিজবা পরা ফরজ। আর হিজাব ফরজ কিনা তা নিয়ে ইজতিহাদ তথা এ সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণারও প্রয়োজন। এটি সুস্পষ্ট সত্য বিষয়। হিজাবের বিধানের ব্যাপারে কেউ মত-পার্থক্য কিংবা বিরোধিতা করতে পারবে না।

কুরআনুল কারিমের এ আয়াত দ্বারা হিজাব ফরজ হওয়ার বিষয়টি এমনভাবে অকাট্য যে, এ সম্পর্কে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দাবি অকার্যকর ও বাদ হয়ে যায়।

বরং যারা কুরআন-সুন্নাহর ব্যাপারে অজ্ঞ কিংবা বিশেষ জ্ঞান রাখে না তারা হিজাব সম্পর্কে কোনো মতামতও প্রদান করতে পারবে না বলে জানান আল-আজহারের ফতোয়া বিভাগ।

আবার আল্লাহ তাআলা সুরা আজহাবে প্রিয় নবিকে তাঁর ও মুমিনদের পরিবারের নারীদের ব্যাপারে জানিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন এভাবে-

‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিনদের স্ত্রীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৫৯)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা হিজাব পরার নির্দেশের পাশাপাশি একটি বিষয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, যদি নারীরা হিজাব পরে তবে তারা করো দ্বারা উত্যক্ত কিংবা নির্যাতিত হবে না। কোনো নৈতিকতাহীন কাজের সম্মুখীন হবে না।

এ দুইটি আয়াত দ্বারাই আল্লাহ তাআলা নারীদের জন্য হিজাব ফরজ করেছেন। মাহরাম ব্যতিত কারো সামনে নিজেদের উপস্থাপনকে নিষিদ্ধ করেছেন।

হিজাব সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, নারীরা মুখমণ্ডল ও হাতের কব্জি থেকে আঙুল পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখতে পারবে। এ দুটি স্থান ব্যতিত পুরো শরীর ঢেকে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।

ইসলামের এ নির্দেশনা নারীদের সতীত্ব ও নারীত্ব রাক্ষার নির্দেশ। সামাজিক নানা অবক্ষয় থেকে নারীদের মুক্ত করার নির্দেশও এটি। নারীদের ইজ্জত-আব্রু ও চরিত্রের হেফাজতে ইসলামের নির্দেশনার কোনো বিকল্প নেই। কুরআনের এ নির্দেশনা মানলেই নারীরা পাবে পরিপূর্ণ সুরক্ষা।

আর সে কারণেই হিজাবের প্রতি কুরআনের এ নির্দেশনার ব্যাপারে বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আল-আজহার আন্তর্জাতিক ফতোয়া বিভাগ নারীদের জন্য হিজাবের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে মুসলিম নারীদের সতর্ক করেছে।

হিজাব ইসলামি পোশাক। এটি নারীদের জন্য কল্যাণকর। ইসলামি নির্দেশনা ছাড়াও হিজাব মানুষের ফিতরাত (স্বত্তাগত স্বভাব) পন্থী। যা শুধু কুচারিত্রের মানুষ ও বদ জ্বিনের কুদৃষ্টি থেকেই মুক্তি দেয় না বরং পরিবেশগত শারীরিক সুরক্ষাও দেয়।

তাই বর্তমান সময়ে অবাধ ও অসাধু প্রতিযোগিতায় উলঙ্গপনা ও খোলামেলা পোশাকে উন্মুক্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। নানা প্রলোভন ও অধিকারের কথা বলে নারীকে ইসলামের সুন্দর আহকাম হিজাব তথা পর্দা থেকে দুরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি এসব বিষয়ে ফতোয়া দেয়ার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এগুলো চরম গোমরাহী।

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলিম নারীদের ইসলামি বিধান হিজাব পরিধান করে নিজেদের ঈমান, ইজ্জত ও চরিত্রের হেফাজত করে উলঙ্গপনা ও অশ্লীলতা থেকে নিজেদের হেফাজত করা জরুরি।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি মিসরসহ বিশ্বব্যাপী হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোহের পায়তারা চলছে। বিশ্বের অনেকে দেশে তা আইন করেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যা নারী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

হিজাবকে হ্যাঁ বলার সংগ্রামে হিজাব পরার মাধ্যমে নারীদের ইতিবাচক অংশগ্রহণই হবে হিজাব বিরোধীদের জন্য চরম প্রতিবাদ ও উপযুক্ত জবাব।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকেই কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। সুখী ও সুন্দর জীবন লাভ করার তাওফিক দান করুন। বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকার পাশাপাশি সামাজিক অসভ্য ব্যাধি ও কুচরিত্রিক মানুষের কালো থাবা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। ঘর থেকে বের হলেই হিজাব পরে বের হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »