বিজনেস২৪বিডি ডেস্ক »

জান্নাতিদের জন্য আল্লাহ যেসব নেয়ামত দান করবনে, এর মধ্যে এটিও একটি যে তিনি তাদের প্রতি কখনো নখোশ হবেন না। আল্লাহ তাআলা জান্নাতি বান্দাদের কাছে জানতে চাইবেন হে আমার বান্দারা তোমরা আমার কি চাও?

তখন বান্দার কোনো কিছুর চাহিদা থাকবে না। তখন আল্লাহ তাআলা বান্দাকে বলবেন। তোমাদের জন্য আমার কাছে আরও নেয়ামত আছে। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর সঙ্গে বান্দার চাওয়া-পাওয়ার কথাগুলো এভাবেই তুলে ধরেছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা জান্নাতিদের লক্ষ্য করে বলবেন-
হে জান্নাতিগণ!
তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! উপস্থিত, আমরা আপনার খেদমতে উপস্থিত।
এরপর আল্লাহ (জান্নাতিদের কাছে) জানতে চাইবেন, ‘তোমরা কি খুশি হয়েছ?
তারা বলবে, আমরা কেন খুশি হব না; আপনি অবশ্যই আমাদেরকে এমন নেয়ামত দান করেছেন যা আপনার সৃষ্টি জগতের আর কাউকেই দান করেননি।
তখন তিনি (আল্লাহ) বলবেন, আমি এর চেয়েও উত্তম জিনিস তোমাদেরকে দান করব।
তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! এর চেয়েও উত্তম আর কী আছে?
আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমাদের ওপর আমি আমার সন্তুষ্টি অবধারিত করব। তারপর আমি আর কখনো তোমাদের ওপর নাখোশ হব না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

এ হাদিসে আল্লাহ তাআলা জান্নাতি বান্দার জন্য তার নেয়ামতের ঘোষণা দিয়েছেন। বান্দাদের প্রতি তার সন্তুষ্টিকে অবধারিত করে দিয়ে তার রাগ হওয়াকে হারাম ঘোষণা করেছেন।জান্নাতি বান্দার প্রতি আল্লাহ কখনো রাগ বা নাখোশ হবেন না বলেও ঘোষণা দেন।

মুমিন মুসলমানের জন্য এমন একটি আমল রয়েছে, যে আমলে দুনিয়া ও পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি অবধারিত। যাদের প্রতি আল্লাহ কখনো রাগ করবেন না বা নাখোশ হবেন না। আর তা হচ্ছে মহান আল্লাহর ভয়। আল্লাহ তাআলাকে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ভয় করতে হবে।

যারা আল্লাহকে ভয় করবে তাদের জন্য আল্লাহ দুনিয়ায়ও পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন-

‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর, তাহলে তিনি তোমাদেরকে ফয়সালা (কষ্টিপাথরের মতো ক্ষমতা) দান করবেন; তোমাদের পাপগুলো তোমাদের থেকে দূর করে দেবেন। তোমাদের ত্রুটি-বিচু্যতি (দোষগুলো) ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতিশয় অনুগ্রহশীল।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ২৯)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাকে ভয় করার জন্য ৩টি নেয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন-

> যারা আল্লাহকে ভয় করবে; আল্লাহ তাদেরকে (কষ্টি পাথর সমতুল্য) ন্যায়-অন্যায় বুঝার ক্ষমতা বা জ্ঞান দান করবেন। যে অনুযায়ী তারা আমলি জিন্দেগি যাপন করবেন।
> যারা আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তাদের পাপগুলো সরিয়ে দেবেন।
> যারা আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তাদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন।
এ ৩ ঘোষণার পর আল্লাহ বলেন যে, আল্লাহ (বান্দার প্রতি) অত্যন্ত অনুগ্রহশীল।

আর যারা আল্লাহকে না দেখে ভয় করেন, তাদের জন্যও রয়েছে মহা পুরস্কার। সে ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘জান্নাতকে উপস্থিত করা হবে আল্লাহকে ভয়কারীদের অতি কাছে। তোমাদের প্রত্যেক অনুরাগী ও স্মরণকারীকে এরই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হত। তোমরা এতে শান্তিতে প্রবেশ কর। এটাই অনন্তকাল বসবাসের জন্য প্রবেশ করার দিন। তারা তথায় যা চাইবে, তাই পাবে এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অধিক।’ (সুরাকাফ : আয়াত ৩১-৩৫)

আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সব নেয়ামত দেয়ার পরও তার কাছে আরও অধিক পুরস্কার আছে বলে কুরআনের সুরা ক্বাফ এর ৩৫নং আয়াতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এর মধ্যে জান্নাতে বান্দার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নাখোশ না হওয়া তার একটি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালে তার যাবতীয় নেয়ামত লাভে আল্লাহকে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে ভয় করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহর আমল দিয়ে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »