৬৭ শতাংশ দাম বেশি হওয়ায় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ক্রয় কমিটি

২০ লাখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কেনার অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। কিন্তু এর আগে একই পরিমাণ এমআরপি পাসপোর্ট কিনতে যে খরচ ধরা হয়েছিল এবার তার চেয়ে ৬৭ শতাংশ বেশি দাম প্রস্তাব করায় সেটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে কমিটি।

কমিটির সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ২০ লাখ এমআরপির জন্য ৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়, যা গতবারের তুলনায় ৬৭ শতাংশ বেশি। তাই এই ক্রয় প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এখন তো প্রচুর পাসপোর্ট প্রয়োজন রয়েছে, এতে সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তাদেরকে (সুরক্ষা সেবা বিভাগ) আমরা এডভাইস (উপদেশ) দিয়েছি যেহেতু সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এগুলো কেনা হবে, সেহেতু এক্ষেত্রে টেন্ডার প্রয়োজন হবে না। সুতরাং তারা অন্য যারা এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে যদি দামটা কমাতে পারে, একই সঙ্গে সরবরাহ করার সময়টা কমাতে পারে তাহলে কেন নয়?’

মন্ত্রী বলেন, ‘সেটা করার জন্যই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ কাজটি পৃথিবীতে অসংখ্য কোম্পানি করে। তাই আমার বিশ্বাস তারা সফল হবে। একটু সমস্যা হলেও এটি আমাদের করতে হবে। কারণ ৬৭ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি অনেক বেশি। এতটা মূল্য বৃদ্ধি হলে আমাদের কমিটির পক্ষেও এটা অনুমোদন দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম সাংবাদিকদের জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এটা সম্পন্ন করে আবার কমিটিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘২০ লাখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কেনার কথা ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের। কিন্তু এটা আজকে তারা প্রত্যাহার করে নিয়ে গেছে। আগের দামের চেয়ে বেশ দাম বেড়েছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে পাইলট বেসিসে ই-পাসপোর্টে যাচ্ছি। তবে ই-পাসপোর্টে আমরা এখনই লার্জ স্কেলে যেতে পারছি না। তাই আরও এমআরপি পাসপোর্ট প্রয়োজন।’

তবে আজকের প্রস্তাবে ২০ লাখ এমআরপি পাসপোর্ট কেনার জন্য যে দাম ধরা হয়েছে তা আগের তুলনায় অনেক দাম বেশি। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে আরও ৪-৫টি কোম্পানির সাথে দর কষাকষি করে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ দর নির্ধারণ করে কমিটিতে পাঠাতে বলা হয়েছে।

সুরক্ষা সেবা বিভাগ প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, আরও ২০ লাখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই দফায় ২০ লাখ এমআরপির সাথে ২০ লাখ লেমিনেশন ফয়েলও কেনার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। এজন্য মোট ব্যয় ধরা হয় ৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। এই পাসপোর্টগুলো সরবরাহ করার জন্য আইডি গ্লোবাল সলিউশন লিমিটেডকে (সাবেক ডি লা রু ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড) প্রস্তাব করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর কর্তৃক আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এক কোটি ৫০ লাখ এমআরপি এবং দেড় কোটি লেমিনেশন ফয়েল ২৬৭ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় যুক্তরাজ্যের ডি লা রু ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সাথে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর ২০১৩ সালের ১২ জুন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ডি লা রু ইন্টারন্যাশনাল দেড় কোটি এমআরপি ও দেড় কোটি লেমিনেশন ফয়েল সরবরাহ করেছে।

মন্ত্রিসভায় কমিটির বৈঠকের জন্য পাঠানো এ সংক্রান্ত একটি সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, ‘বর্তমানে পাসপোর্টের চাহিদা প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার। চলতি নভেম্বর মাসের ১২ তারিখে মজুত পাসপোর্টের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৯১ হাজার ৯৯৩টি এবং লেমিনেশন ফয়েলের সংখ্যা ১৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০টি। দ্বিতীয় ভেরিয়েশন অর্ডার অনুসারে সরবরাহের অপেক্ষায় আছে ১৪ লাখ ৮ হাজারটি পাসপোর্ট বুকলেট, যা দিয়ে সর্বোচ্চ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে ‘ভেরিডস জিএমবিএইচ’র সাথে চুক্তি মোতাবেক পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু হয়ে সব আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে (দেশে ৬৯টি) এবং বিদেশে সব মিশনে (৮০টি মিশনে) চালু হতে আনুমানিক প্রায় ১৮ মাস সময় প্রয়োজন হবে।

তবে প্রাথমিকভাবে আগামী ডিসেম্বর হতে ই-পাসপোর্ট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে সব পাসপোর্ট অফিসে এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে ই-পাসপোর্ট চালু না হওয়া পর্যন্ত ১৮ মাস জনসাধারণের চাহিদা অনুযায়ী এমআরপি প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে। ই-পাসপোর্ট চালুর পর পর্যায়ক্রমে এমআরপি ইস্যু কমে যাবে এবং ই-পাসপোর্ট ইস্যু বৃদ্ধি পাবে বলে সার-সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »