সৌদির জিডিপিতে বেশি অবদান আবাসনের

স্টাফ রিপোর্টার

গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সৌদি আরবের জ্বালানি তেলবহির্ভূত জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে আবাসন খাত, যার হার ১২ দশমিক ২ শতাংশ। এরপর আছে নির্মাণ খাত। এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির নগর, পল্লী ও গৃহায়ণবিষয়ক মন্ত্রী মজিদ বিন আব্দুল্লাহ আল হোগাইল। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রিয়েল এস্টেট ফিউচার ফোরামের তৃতীয় সংস্করণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মজিদ বিন আব্দুল্লাহ। ‘‌দ্য পাওয়ার অব ফ্লেক্সিবিলিটি: বিল্ডিং আ সাসটেইনেবল অ্যান্ড ফ্লারিশিং রিয়েল এস্টেট ফিউচার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের ৩০০ বক্তাসহ ৮৫টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন, যা অর্থনীতিবিদ, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক ও আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এ সময় মন্ত্রী জানান, দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে, পারিবারিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত ও শালীন জীবনমানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে অবদান রাখছে আবাসন খাত। পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

মজিদ বিন আব্দুল্লাহ জানান, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে সৌদি আরবের আবাসন খাত ১২ দশমিক ২ শতাংশ ও নির্মাণ খাত ১১ দশমিক ৩ শতাংশ তেলবহির্ভূত জিডিপিতে অবদান রেখেছে।

সৌদি আরবের আবাসন খাত ১২০টির বেশি শিল্পের সঙ্গে জড়িত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‌উচ্চাভিলাষী ভিশন ২০৩০ সমর্থিত আবাসন বাজার এখন একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। খাতটি এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ও টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করেছে।’

‌সহজ নীতি ও আইনের বাস্তবায়ন এ খাতকে কার্যকরভাবে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ও গতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে বলেও জানান মজিদ বিন আব্দুল্লাহ।

আরো জানান, আবাসন খাত উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংস্কার নীতি গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে অধিকার রক্ষা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও একটি টেকসই শিল্পের জন্য আইন জারি করেছে সরকার।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পুঁজির জন্য সৌদি আরব আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, খাতের উন্নয়ন ও আবাসন সরবরাহ প্রসার করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি চীনের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব। এতে এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি সৌদি রিয়াল বা ১৩০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এছাড়া মিসরীয় এক কোম্পানির সহযোগিতায় প্রায় ২৮ হাজার ইউনিটের একটি বড় আবাসিক প্রকল্প চলমান রয়েছে।

আগামীতে আরো বেশি আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের জন্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান মজিদ বিন আব্দুল্লাহ আল হোগাইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *