সার পরিবহন নিয়ে বিপাকে বিএডিসি
সার পরিবহন নিয়ে বিপাকে পড়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। একাধিক দরপত্র দিয়েও মিলছে না ঠিকাদার। সেক্ষেত্রে আতঙ্ক ছড়িয়ে দরপত্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি মহলের ওপর।
জানা গেছে, এরই মধ্যে ৭৫ হাজার টন নন-ইউরিয়া সার পরিবহনের জন্য দুটি পৃথক দরপত্র আহ্বান করেছিলো সংস্থাটি। গত মঙ্গলবার ছিল ৪০ হাজার টনের প্রথম চালানের দরপত্র জমাদানের শেষ দিন। কিন্তু তাতে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। আর দ্বিতীয় দরপত্রের শেষ দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার।
জানা গেছে, ওই দরপত্রে অংশ নেওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। আগে নিয়মিত যেসব প্রতিষ্ঠান এসব সার পরিবহনের কাজে অংশ নিতেন তারাও এখন চুপ। এতে নির্ধারিত সময়ে সার পরিবহন ও মাঠপর্যায়ে সরবরাহ নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কারণ হিসেবে জানা গেছে, সাধারণ ঠিকাদাররা যেন এ কাজে অংশ না নেয়, সেজন্য তাদের মধ্যে আগেই আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কৃষক দলের প্রভাবশালী একটি গ্রুপ। যে কারণে দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে ভয় পাচ্ছেন তারা। ওই গ্রুপ দরপত্রে অংশ নেওয়া সম্ভাব্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়েছে ‘নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া যেন কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা না দেয়’। এমন হুমকির পরেই তৈরি হয়েছে এ অচলাবস্থা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, এই আতঙ্ক তৈরি করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একজন বড় নেতা ও তার অনুসারীরা। প্রভাবশালী এই গ্রুপটি আতঙ্ক ছড়িয়ে কাউকে দরপত্র জমা দিতে দেয়নি। আতঙ্কে কোনো পরিবহন ঠিকাদার সেখানে অংশ নিতে যায়নি। তবে যারা এই কাজ করেছেন, তাদের পক্ষ থেকেও কেউ দরপত্রে অংশ নেননি। আসলে তারা চাইছে, যারা টেন্ডারে আসবে, তারা যেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরেও একটি গ্রুপ বিএডিসির অফিসে মহড়া দেয়। সার ব্যবস্থাপকের অফিসে হুমকি দেয়, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া যেন কেউ দরপত্র না জমা করে।
বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর একাধিক দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার পরিবহনের দরপত্র আহ্বান করে প্রতিষ্ঠানটি। একই দিনে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার পরিবহনের আরও একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
তবে এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বিএডিসি চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলামের কোন বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এদিকে, বিএডিসি শেষ হওয়া দরপত্র আবার পুনঃআহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে বিএডিসির টেন্ডারে ঠিকাদারদের অংশ না নেওয়ায় এক ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, কয়েকদিনের মধ্যে ৪০ হাজার মেট্রিক টনের একটি সারের চালান দেশের বন্দরে প্রবেশ করবে।
দরপত্রে এ অস্থিরতার কারণে সার সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং বন্দরে জাহাজ জরিমানার চক্করে পড়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
