শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

স্টাফ রিপোর্টার

অনেক দিন পর দেশের শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে ব্যাংক কোম্পানিগুলো। এতে মূল্য সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের গতি। সোমবার (৭ জুলাই) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক প্রায় ১০০ পয়েন্ট বেড়ে গেছে। আর লেনদেন হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এতে ডিএসইতে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে ব্যাংক। সেই সঙ্গে অন্যান্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ফলে বাজারটিতেও মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এর মাধ্যমে নতুন অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর প্রথম তিন কার্যদিবসেই মূল্য সূচক বাড়লো।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সোমবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের বড় উত্থান হয়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা ধরে রাখে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও। ফলে সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থান দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। আর একটির শেয়ার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্যাংকের এমন দাপটের দিনে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৩টির। আর ৪৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৭টির দাম কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৯টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ২৫টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে পঁচা ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২১টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত ৩৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে ৫৭৩ কোটি ৪৬ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫০৬ কোটি ১৮ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৬৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ৫ মে এর পর ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হলো।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক। কোম্পানিটির ৩৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার নদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংক।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বিচ হ্যাচারি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, অগ্নি সিস্টেম এবং এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৮৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৭টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *