শুধু পোশাক উৎপাদন নয়, ব্র্যান্ডিংয়েও এগোতে হবে বাংলাদেশকে
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে কেবল উৎপাদননির্ভর শিল্প হিসেবে নয়, বরং একটি বৈশ্বিক ফ্যাশন ও ব্র্যান্ডিং শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ব্র্যান্ডিং, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের ওপর আরও গুরুত্বারোপের আহ্বান জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হল-৪-এর মেজানাইন লেভেলে ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬-এর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজনেস ফোরাম (আইবিএফ) ২০২৬’-এর বিশেষ প্যানেল আলোচনায় এ আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনার বিষয় ছিল ‘ফ্রম ফ্যাক্টরি ফ্লোর টু গ্লোবাল ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্স: ব্রিজিং দ্য ব্র্যান্ডিং গ্যাপ ইন বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ডটেক্স ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজেশ ভগত।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সম্পাদক-ইন-চিফ ড. শরীফ এন. এস. সাবের বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা উৎপাদন ক্ষমতার পাশাপাশি উদ্ভাবন, ব্র্যান্ডিং, টেকসই উন্নয়ন এবং মূল্য সংযোজনের ওপর নির্ভর করবে।
সেশনটি সঞ্চালনা করেন উর্মি গ্রুপের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি এবিএম ফখরুল আলম। তিনি মূল প্রবন্ধে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও ভোক্তাদের পরিবর্তিত চাহিদা, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল সোর্সিং এবং ব্র্যান্ড স্টোরিটেলিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন রিয়াজ গার্মেন্টস লিমিটেডের পরিচালক মো. সালাউদ্দিন, এমবি নিটের পরিচালক ও বায়লার প্রথম সহ-সভাপতি হাসিন আরমান, নর্পনিট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্দ্রপাল সিং রাওয়াত, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের বিজনেস এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন, টেক্সটাইলজেনেসিসের রিজিওনাল লিড শাহানা আক্তার কিরণ এবং ক্লথস ‘আর’ আস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিয়াও সেইন থে ডলি।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বস্ত উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন ব্র্যান্ডিং, ডিজাইন উদ্ভাবন, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং শিল্পের বিভিন্ন অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক ফ্যাশন অঙ্গনে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।
ফোরামে আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড গড়ে তোলা, ভোক্তা সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়নকে ব্র্যান্ডিংয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং বৈশ্বিক ফ্যাশন নেতৃত্বে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ফ্যাশন বিজনেস জার্নালের সম্পাদক আখি আক্তার শিল্পখাতের অংশীজনদের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিল্প, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং উদ্যোগের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ফ্যাশন ইকোসিস্টেম গঠনে ফ্যাশন বিজনেস জার্নাল কাজ করে যাবে।
বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কেবল উৎপাদন দক্ষতার ওপর নয়, বরং সৃজনশীলতা, ব্র্যান্ডিং, উদ্ভাবন ও কৌশলগত বৈশ্বিক অবস্থান তৈরির সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করবে।
