রফতানি প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতির আশঙ্কা থাইল্যান্ডের
আগামী বছর থাইল্যান্ডের রফতানি প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ হার দশমিক ২ থেকে ৪ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করবে। এটির আর্থিক মূল্য ২৬ হাজার ২০০ কোটি থেকে ২৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। খবর ব্যাংকক পোস্ট।
কভিড-১৯-এর নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ, ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যে বিরাজমান মূল্যস্ফীতি এবং চীনে কভিডের বিস্তার রোধে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের কারণে এ বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের।
ইউনিভার্সিটি অব থাই চেম্বার অব কমার্সের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড স্টাডিজ বিভাগের পরিচালক আত পিসানওয়ানিচের মতে, রফতানি প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তারকারী অন্য সমস্যাগুলো হলো কনটেইনার সংকট, উচ্চ পরিবহন ব্যয়, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ চেইনের সংকট।
পিসানওয়ানিচ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার তথ্যানুযায়ী ওমিক্রনের সংক্রমণ হার যদি সেভাবে না বাড়ে তাহলে আগামী বছর থাইল্যান্ডের রফতানি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার ৭০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এ খাতের বাজার ২৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে।
তিনি আরো বলেন, ২০২২ সালে যদি ওমিক্রনের সংক্রমণ ও বিস্তার গুরুতর আকার ধারণ করে তাহলে থাইল্যান্ডের রফতানিতে দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। তবে সে রকম কিছু হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৩০ শতাংশ।
সম্প্রতি দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি বছর রফতানি ১৬ শতাংশ বেড়ে ২৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছিল। ২০২১ সালের প্রথম ১১ মাস ইতিবাচক বাজার থাকায় থাইল্যান্ডের রফতানি ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। ২০২০ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার।
২০২২ সালের জন্য দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ রফতানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। অর্থের হিসাবে এটি ২৭ হাজার ৮০০ কোটি থেকে ২৮ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। আত পিসানওয়ানিচ বলেন, ২০২২ সালে থাইল্যান্ডের রফতানি বৃদ্ধি মূলত দেশটির ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার পুনরুদ্ধারের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, ইউনিভার্সিটি অব থাই চেম্বার অব কমার্স ওমিক্রন সংক্রমণের পাশাপাশি উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্টের ভিত্তিতে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য বাণিজ্য বিরতির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সিদ্ধান্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আগামী বছরের শুরুতে রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ কার্যকর করা হলে তা থাইল্যান্ডের রফতানিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও জানান তিনি।
