যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে বাংলাদেশের লাভ না ক্ষতি?
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত একতরফা ‘পাল্টা শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) অবৈধ ঘোষণা করেছে। ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ থেকে বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা সুবিধা পেতে চুক্তিটি পুনঃপর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে পাল্টা শুল্কের হার ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ২০ শতাংশ ছিল। প্রথমে এটা ছিল ৩৭ শতাংশ।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের দাবি, এ চুক্তি বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ সুবিধা সৃষ্টি করবে না; কারণ সবার জন্য শুল্ক হার সমান থাকায় প্রতিযোগিতার মাত্রা একই থাকবে।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন- যে চুক্তিটি তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা হয়েছে। এটা কিছুটা হলেও অসম চুক্তি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশের জন্য শর্তাবলি অসুবিধাজনক হতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় পরিমাণ আমদানি করতে হবে। তাদের মতে, চুক্তিটি পুনঃমূল্যায়নের প্রয়োজন। কারণ এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই তার অবস্থান পাল্টেছে ট্রাম্পের আরোপিত একতরফা ‘পাল্টা শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
১৯ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমে আসা ট্যারিফ বাংলাদেশের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুখবর। তবে ১৫০ দিনের পর নতুন রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত ও নীতিমালার ওপর। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— প্রস্তুতি, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং নীতিগত দৃঢ়তা।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য এটি কেবল একটি সুযোগ নয়, বরং কৌশলগত পুনর্মূল্যায়নের সময়।
যা বলছেন রপ্তানিকারকরা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— আমরা কি বাস্তবে কোনো লাভবান হচ্ছি, নাকি এই পরিবর্তন শুধু প্রতিযোগী দেশগুলোর সুবিধা দিচ্ছে। আগে আমরা ৩৭ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশ ট্যারিফ কমানোর মাধ্যমে কিছু সুবিধা পেয়েছিলাম, কিন্তু আদালতের রায়ে সেই কাঠামো বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন সেগুলো আর কার্যকর নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
‘নতুন ১০ শতাংশ ট্যারিফ সব দেশের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়ায় আমাদের আগের লাভ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃস্থাপন হয়নি।’
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ পরিস্থিতিতে চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ কী দিচ্ছে এবং কী পাচ্ছে—তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তারমতে, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন ও সমন্বয় করা জরুরি, যাতে যাতে আমরা সুবিধা নিতে পারি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে যদি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলে বিনিময়ে বাংলাদেশের জন্যও সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, চুক্তিটি দেশের জন্য অসম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্কের পরিবর্তে প্রায় ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে ক্রেতারা কিছুটা সুবিধা পাবেন এবং কাজের অর্ডার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে একজন রপ্তানিকারককে মোট প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতে পারে।
