বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার

“বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার অনিষ্পন্ন বীমা দাবি রয়েছে। প্রতিটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সব বিকল্প শেষ হওয়ার পর সরকারের কাছে এককালীন (ওয়ান-টাইম) বেইলআউট প্যাকেজের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।”

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের হোটেল একাত্তরে ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট-পরবর্তী বীমা খাত: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। আইআরএফ সভাপতি গোলাম মওলার সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি সাঈদ আহমেদ এমপি এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের (বিআইএফ) সভাপতি বি এম ইউসুফ আলী।

বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বীমাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলা এবং খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি— এই তিন স্তম্ভকে সামনে রেখে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

তিনি বলেছেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সপ্তাহ ধরে খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। কেবল সমস্যা নয়, সমাধানভিত্তিক সংস্কারে আমি বিশ্বাসী। সে লক্ষ্যেই একটি সংস্কার কাঠামো (রিফর্ম ফ্রেমওয়ার্ক) তৈরি করা হয়েছে।”

আইডিআরএর চেয়ারম্যান বলেন, “প্রতিটি কোম্পানির সঙ্গে আলাদাভাবে বসে তাদের আর্থিক ও পরিচালনাগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কোথাও সম্পদ বিক্রি, কোথাও আটকে থাকা অর্থ উদ্ধার কিংবা অন্য কোনো উপায়ে দাবি পরিশোধের সুযোগ তৈরি করা গেলে আইডিআরএ তা সমন্বয় করবে।”

তিনি বলেন, “অনেক কোম্পানির এফডিআরের অর্থ দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকে আটকে আছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা অর্থ প্রয়োজন অনুযায়ী নগদায়নের সুযোগও বিবেচনা করা হবে।”

“দেশের পুঁজিবাজারে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অভাব রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বীমা কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারের অন্যতম বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে, নতুন কোম্পানির প্রাথমিক শেয়ার (আইপিও) ইস্যুতে বীমা কোম্পানির বড় ভূমিকা থাকে।”

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, “শক্তিশালী বীমা খাত গড়ে উঠলে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উৎস তৈরি হবে। তাই, পুঁজিবাজার সংস্কার ও বীমা খাতের উন্নয়ন পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

সেমিনারে অন্য বক্তারা বলেন, “বীমা খাতকে টেকসই ও জনমুখী করতে হলে আস্থা, সুশাসন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *