বর্ণিল আয়োজনে ‘বিজিএমইএ কাপ-২০২৬’ এর ট্রফি উন্মোচন
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় করপোরেট ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘বিজিএমইএ কাপ-২০২৬’ এর ট্রফি উন্মোচন, ‘বিজিএমইএ-বাফুফে অংশীদারিত্ব উদযাপন’ এবং মেগা অকশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে উৎসবমুখর ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে ‘বিজিএমইএ কাপ-২০২৬’ এর ট্রফি উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক নাফিস- উদ- দৌলা, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, সাবেক পরিচালক মো. ইমরানুর রহমান এবং স্পোর্টস কমিটির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ আলী খান, সাসটেইনেবল এনার্জি কমিটির চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান সাপুসহ বিজিএমইএ’র বিভিন্ন কমিটির সদস্য ও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএ’র মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজিএমইএ’র পরিচালক ও স্পোর্টস কমিটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ শাহ রাঈদ চৌধুরী বিজিএমইএ ও বাফুফের সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি নারী পোশাক কর্মীদের নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ ওভিসি (অনলাইন ভিডিও কমার্শিয়াল) প্রদর্শনীও উপস্থাপন করেন। যেখানে শ্রমিকদের নিপুণ কর্মদক্ষতা ও সবুজ মাঠে ফুটবল নৈপুণ্য ফুটিয়ে তোলা হয়।
বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, পোশাক শিল্পের দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই এই শিল্পের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছেন। এই ধরনের টুর্নামেন্ট তাদের সঙ্গে শিল্পের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি ঢাকা শহরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত মাঠগুলোর মধ্য থেকে একটি মাঠ বিজিএমইএ-কে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান। মাঠ পেলে বিজিএমইএ করপোরেট স্পন্সরদের সহায়তায় নিজ দায়িত্বে সেগুলোর আধুনিক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে বলে তিনি জানান।
বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম বলেন, বিজিএমইএ একটি সুসংগঠিত পরিবার। যৌথভাবে তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল করবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাণিজ্য সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও বিজিএমইএ বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছে। ঢাকার অভ্যন্তরে উপযুক্ত মাঠ পেলে বিজিএমইএ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেগুলোর উন্নয়ন ও দেখভাল করবে। এছাড়া বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির কারিকুলামে ‘স্পোর্টস’ যুক্ত করার কাজ চলছে এবং অচিরেই বিকেএসপির কারিকুলামেও এটি অন্তর্ভুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, বিগত ৫৬ বছরে ক্রীড়াঙ্গনকে যেভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে গড়ে তোলা উচিত ছিল, তা না হলেও বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় রূপান্তর শুরু হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য ‘ক্রীড়া ভাতা’ চালুর পাশাপাশি করপোরেট হাউজগুলোকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধান অতিথি ও সভাপতির হাতে বিশেষ জার্সি তুলে দেন বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম। শেষে ১৬টি দলের এই মেগা অকশনের মধ্য দিয়ে আগামী ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার সফল সূচনা নিশ্চিত করা হয়।
