তৃতীয় প্রান্তিকে চট্টগ্রাম বন্দরে কমেছে পণ্য হ্যান্ডলিং

স্টাফ রিপোর্টার

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এ সময়ে আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং সামান্য কমার পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ফলে আগের দুই প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির ধারায় থাকা বন্দরের সার্বিক পণ্য হ্যান্ডলিং তৃতীয় প্রান্তিকে নেতিবাচক হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে হ্যান্ডলিং হওয়া পণ্যের তুলনায় এটি ০.৬৭ শতাংশ কম।

অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ছিল। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন বেড়েছিল ১৩.৮৮ শতাংশ। পরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৬৬ শতাংশ।

তৃতীয় প্রান্তিকে বন্দরের সার্বিক হ্যান্ডলিং কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে রপ্তানি পণ্য। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৫৪ শতাংশ কমে ১ কোটি ৯৭ লাখ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন।

চলতি অর্থবছরের শুরুতে অবশ্য রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে বেশ ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। প্রথম প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮.৩২ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং ৯.৩৫ শতাংশ বেড়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় প্রান্তিকে এসে হঠাৎ পতন দেখা দিয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার পরিবর্তন, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নানা ধরনের সমন্বয়ের প্রভাব পড়েছে রপ্তানি কার্যক্রমে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও কিছুটা বাধা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের বড় অংশই আমদানি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। তৃতীয় প্রান্তিকে এ খাতেও প্রবৃদ্ধির গতি থেমে গেছে। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.১৭ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই প্রান্তিকে আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন।

অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে অবশ্য শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ছিল। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে তা ১৩.৫৫ শতাংশ এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ১০.৭৫ শতাংশ বেড়েছিল। তৃতীয় প্রান্তিকের সামান্য পতনকে তাই আমদানি কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার পরিবর্তে সাময়িক স্থবিরতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৃতীয় প্রান্তিকে পণ্য হ্যান্ডলিং কিছুটা কমলেও দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে এখনো ইতিবাচক প্রবণতা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরে মোট ১৩ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছিল। আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪-এ এর পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক বছরে পণ্য হ্যান্ডলিং বেড়েছিল ৬.০৭ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্দরের জেটি অবকাঠামোর উন্নয়ন, কনটেইনার ওঠানামা ও খালাস কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা এবং বছরের শেষ প্রান্তিকে নতুন রপ্তানি আদেশ বাড়লে পণ্য হ্যান্ডলিং আবারও বাড়তে পারে। এতে পুরো অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *