তামার বৈশ্বিক ঘাটতি অতীতের সব রেকর্ড ভাঙতে পারে

স্টাফ রিপোর্টার

২০৩৫ সালের মধ্যে তামার বৈশ্বিক বাজার সরবরাহে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আর এ ঘাটতির তীব্রতা ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে শিল্প খাতটির সম্প্রসারণ ক্ষমতার ওপর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি স্থানান্তরজনিত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ধাতুটির চাহিদা এ সময়ের মধ্যে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টনে উন্নীত করতে পারে, বর্তমানে যা ২ কোটি ৫০ লাখ টনে অবস্থান করছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের ভাইস চেয়ারম্যান ডেনিয়াল ইয়েলগেন সম্প্রতি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এক প্যানেল আলোচনায় বলেন, বর্তমানে আমাদের সামনে দুটি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, বর্তমানে আমরা যে সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে রয়েছি তার মধ্য থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করা। অন্যটি উচ্চাভিলাষী প্রেক্ষাপট। এক্ষেত্রে আমরা সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা দেখতে পারি।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল নাগাদ বৈশ্বিক বাজারে প্রায় ১৫ লাখ টন তামার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। উচ্চাভিলাষী সরবরাহ দৃশ্যপটের ক্ষেত্রে ঘাটতির পরিমাণ এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে প্রতিবন্ধকতা সংকুল সরবরাহ দৃশ্যপটের ক্ষেত্রে ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৯৯ লাখ টনে।

প্রতিষ্ঠানটির মার্কেট ইন্টিলিজেন্সের ননফেরাস মেটালস ইকোনমিকস অ্যান্ড কান্ট্রি রিস্ক ডিরেক্টর জন মাদারসোল বলেন, উভয় দৃশ্যপটেই ঘাটতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। এর আগে ২০১৪ সালে ধাতুটির রেকর্ড সর্বোচ্চ ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। তবে ঘাটতির পরিমাণ ১০ লাখ টনের নিচে ছিল। বর্তমানেও এ ঘাটতি অব্যাহত আছে।

তিনি আরো বলেন, জ্বালানি স্থানান্তর উন্নয়ন ও তামা উত্তোলন প্রযুক্তির পরিবর্তন ২০৩৫ সাল নাগাদ ঘাটতি কমার পরিমাণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মার্কেট ইন্টিলিজেন্সের ইকোনমিকস অ্যান্ড কান্ট্রির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহসেন বোকান্দারপোর বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহূত যন্ত্রাংশ তৈরি ও পরিচালনায় তামার চাহিদা আগামী এক দশকের মধ্যে ৮ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। অন্যদিকে একই সময় অবকাঠামো নির্মাণ, পরিবহন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরিতে তামার চাহিদা বাড়বে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ২০ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে তামার দাম। যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ঊর্ধ্বমুখী সুদহার এমন দরপতনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তে দেখা গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগ্রাসী মুদ্রানীতি গ্রহণে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রেকর্ড সুদহার বাড়ানোয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ধাতব পণ্যের চাহিদাও।

যুক্তরাষ্ট্রে ঊর্ধ্বমুখী সুদহার শেয়ারবাজারকে চাপের মুখে ফেলেছে। ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে ২০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ফলে ডলারে লেনদেন হওয়া ধাতব পণ্য আরো বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের ক্রেতাদের কাছে এসব পণ্যের চাহিদাও কমছে সমানতালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *