ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ জেলেনস্কির

স্টাফ রিপোর্টার

রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার নতুন চুক্তির ঘোষণা দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার মতে, এই চুক্তি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি সহজ জয়।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগানের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণকে বিশ্বাসঘাতকতা মনে করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘হ্যাঁ’। বুধবার ইউটিউবের অনুষ্ঠান ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড’-এ সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।

জেলেনস্কি বলেন, এটা দুঃখজনক যে আমরা একজন শক্তিশালী অংশীদারকে হারাচ্ছি।

গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বিভিন্ন বাজারে রুশ ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তবে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সমালোচনার মুখে পড়ে। ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়।

এদিকে, সোমবার ট্রাম্প ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনে নতুন করে হামলা চালায় রুশ বাহিনী। তবে মস্কো ও কিয়েভ—কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে ওই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে জেলেনস্কি বলেন, এটা আমাদের দেশ, আমাদের শরীর, আমাদের ঘরবাড়ি, আমাদের সন্তান। তাই ট্রাম্প যখন এক পক্ষকে বেছে নেন, তখন তা কষ্ট দেয়।

তিনি আরও বলেন, আপনি যদি মাঝামাঝি অবস্থানে থাকেন, তাহলে সেখানেই থাকা উচিত। ভুল পক্ষের দিকে যাওয়া উচিত নয়। এটি ইতিহাসের সঠিক পক্ষ নয়।

জেলেনস্কির দাবি, ট্রাম্পকে দুর্বল অবস্থানে দেখতে চায় রাশিয়া। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া চায় তিনি (ট্রাম্প) দুর্বল থাকুন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।’

রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিয়েভের আশঙ্কা, মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের এ ধরনের সমঝোতা ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে দুর্বল করতে পারে। তবে জেলেনস্কির বক্তব্যে এ বিষয়ে ইউক্রেনের উদ্বেগই উঠে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *