জ্বালানি আমদানির চাপে আবারও বাড়ছে ডলারের দাম! কেন এই ঊর্ধ্বগতি?

স্টাফ রিপোর্টার

দেশে আবারও ডলারের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সাময়িক শ্লথগতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ বেড়েছে। এতে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখার দ্বৈত চ্যালেঞ্জে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি ব্যাংকগুলো ১২৩ টাকা ৮০-৯০ পয়সা দরে রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌখিকভাবে নির্ধারিত দরের কাছাকাছি। কয়েক মাস আগেও একই ডলার প্রায় এক টাকা কম দামে কেনাবেচা হতো।

ব্যাংকারদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বেশি ডলার ব্যয় করছে। এছাড়া সার আমদানির জন্য আগের তুলনায় বেশি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

কয়েক মাস টানা ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এলেও জুন ও জুলাইয়ে প্রবাহ কিছুটা কমেছে। যদিও বর্তমানে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে, তবুও চলমান চাপের মধ্যে রিজার্ভ ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্যাংকারদের অনেকের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিলাসপণ্য আমদানিতে আরও কঠোরতা, সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন এবং প্রয়োজন হলে সীমিত পরিসরে বাজারে ডলার সরবরাহের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রিজার্ভ থেকে বড় আকারে ডলার বিক্রি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না। বরং বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিনিময় হার কিছুটা সমন্বয়, রেমিট্যান্স বাড়ানোর উদ্যোগ এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস সম্প্রসারণই হবে টেকসই সমাধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *