জীবন ইসলাম অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত
সম্প্রতি কবিতায় বিশেষ অবদান রাখায় সাংবাদিক জীবন ইসলাম কে তিনযুগ পুর্তি উপলক্ষে সংশপ্তক এক্সিলেন্স আ্যাওয়ার্ড-২০২৬, প্রদান করা হয়। জীবন ইসলাম ডেইলী অবজারভার পত্রিকায় সিনিয়র ইকোনমিক করসপন্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত, বাংলা একাডেমীর জীবন সদস্য, প্রতিষ্ঠাতা- বালিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সদর থানা টাঙ্গাইল।
রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোসিয়েশন ঢাবি ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ঢাবি’র ইতিহাস বিভাগের আজীবন সদস্য, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এবং টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য, এনায়েতপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা, কবি ও কথাসাহিত্যিক জীবন ইসলাম পেশায় একজন সাংবাদিক; পাশাপাশি কবিতা ও উপন্যাস লিখে চলেছেন। তাঁর পিতা শেখ মোঃ মোকবুল হোসেন, মাতা নুরজাহান বেগম।
টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার মাকোরকোল গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে ১৯৬৪ সালের ৬ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (অনার্স) এমএ (ইতিহাস) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। কলেজের লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু; পরে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।
দৈনিক কিষাণ, জনতা ও ভোরের কাগজ পত্রিকায় অর্থনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জীবন ইসলাম পেশাগত মান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে দীর্ঘদিন যাবৎ সদর্পে পদচারণ করে চলেছেন। তিনি ‘ব্যবসা-বাণিজ্য’ বিষয়ক অনুষ্ঠান গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনা করেছেন স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলা এবং বিটিবিতে।
২০০৪ সালে ‘আমদানি-রপ্তানি’ সংক্রান্ত শ্রেষ্ঠ রিপোর্টিংয়ের জন্য ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ); অর্থ মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে ২০০৬ সালে ‘ব্যাংকিং বিষয়ক’ শ্রেষ্ঠ রিপোর্টিংয়ের জন্য ডিআরইউ এবং ২০০৯ ও ২০১৭ সালে অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠ রিপোর্টিংয়ের জন্য বিআরএফডি তাঁকে পুরস্কৃত করেছে।
কবি ও লেখক হিসেবে দুবার জাতীয় প্রেসক্লাব এবং দশবার ডিআরইউ পদক গ্রহণ করেন। ২০১২ সালে ভোরের কাগজ কর্তৃক ‘কাব্য কাণ্ডারি’ উপাধি প্রদান; ‘সংগঠক’ হিসেবে ২০১৪ সালে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতি- ঢাকা তাঁকে পদক প্রদান করে। ২০১৬ সালে মানবাধিকার প্রকাশনা সংস্থা ও লোককবি আবদুল হাই মাশরেকী স্মৃতি পদক প্রদান করা হয়। চারবার জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘আমরা কুঁড়ি’ এবং তিনবার ‘সংশপ্তক’ কবিতা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাঁকে পদক প্রদান করে।
২০১৯ সালে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন। শিক্ষানুরাগী হিসেবে কাতুলী উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, টাঙ্গাইল সদর তাঁকে পদক প্রদান করে; কবি, কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষানুরাগী হিসাবে ‘বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন- অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ পদক প্রদান করা হয়।
জীবন ইসলাম’র লেখা গ্রন্থ হৃদয়ে ঠিকানা (১৯৯৮, ২০১১), একটু সুখের জন্য (২০০২, ২০১৬), কাশবনের গাঁ (২০০৪, ২০১৫, ২০১৬), একদিন যমুনায় (২০০৯, ২০১৭), রেবেকার সংসার (২০১২), অরক্ষিত জীবন (২০১৩), ভালো আছি (২০১৪), এইতো জনম (২০১৮), ঢাকায় একরাত (২০১৯), একাত্তরে শিলারা (২০২২)। সম্পাদিত গ্রন্থ- অর্থনীতির বাংলাদেশ (২০০৭); বঙ্গবন্ধুর অর্থনীতি (২০২০)। কাব্যগ্রন্থ ‘পৃথিবীটা ভাড়া বাড়ি’ (২০২৩); পূর্ণিমায় সেন্টমার্টিন (২০২৪, ২০২৫); সুন্দরবনের দিনরাত (২০২৬), এ ছাড়াও যন্ত্রস্থ স্বপ্নের শহর, ‘ভাড়াটিয়া।’
কবি জীবন ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি জয়া ও জ্যোতি দুই কন্যাসন্তানের জনক। কবি প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ‘বালিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়’, সদর থানা টাঙ্গাইল। তিনি সাবেক সহ-সভাপতি ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র সাবেক অর্থ সম্পাদক, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
দুঃসাহসিক খুদে মুক্তিযোদ্ধা কবি জীবন ইসলাম ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি বহন করতে গিয়ে রাজাকারের হাতে ধরা পড়েন এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
