চৌহালীর যমুনা নদীতে চলছে মা ইলিশ শিকার
আব্দুস ছামাদ খান,ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ-ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রজনন মওসুমে ইলিশ শিকারে সরকারী নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীতে চলছে মা ইলিশ শিকার। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যমুনা নদীর প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী অবৈধ ভাবে চলছে মা ইলিশ শিকার। নদী পাড়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির কারণে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। এখন নদী পাড়ের বাতাসে ভাসছে ইলিশের গন্ধ। এই মাছ বেচা-কেনার জন্য প্রায় ১২টি পয়েন্টে বিভিন্ন সময়ে বসছে ভ্রাম্যমান বাজার। রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এসব বাজারে সবচেয়ে বেশি ইলিশ বেচাকেনা হয়।
জানা যায়, ইলিশের প্রজনন মওসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চৌহালী উপজেলার উত্তরে সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি ও দক্ষিণে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পাথরাইল পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলাকায় অবাধে চলছে মা ইলিশ শিকার। দ্রুত গতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে অসাধু জেলেরা মা ইলিশ শিকার করছে। তাদের জালে ডিমওয়ালা রুপালী ইলিশের সাথে ঝাঁকে ঝাঁকে জাটকা ধরা পড়ছে। প্রতিটি জালে মাত্র এক ঘন্টার ব্যবধানে ধরা পড়ছে প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি মা ইলিশ। এসব ইলিশ আকার ভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

একটু কম দামে ইলিশ মাছ কেনার জন্য নিন্ম আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ গুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এই সুযোগে স্থানীয় মাছের আড়ৎদার ও জেলেরা অর্ডার অনুয়ায়ী মাছ ক্রেতার বাড়ীতে পৌছে দিচ্ছে বলেও অনেকেই জানিয়েছেন। সরেজমিন ও বিভিন্ন সূত্রে পাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে যমুনা নদীর খাষকাউলিয়া, খাষপুখুরিয়া, ঘোড়জান, উমারপুর, বাঘুটিয়া, বোয়ালকান্দি, নওহাটা, দত্তকান্দি, দক্ষিন খাষকাউলিয়া, বিনানুই, আজিমুদ্দির মোড়, খগেন ঘাট, ভুতের মোড়, জনতা স্কুলের পশ্চিমে ও চরছলিমাবাদ এলাকায় জেলেদের মা ইলিশ ধরতে গোপনে সহায়তা করছে।
আর এসব জেলেদের জালে আহরিত শত শত কেজি মা ইলিশ মাছ নদী পাড়ের প্রায় ১২ টি পয়েন্টে দিনে ও রাতে বেচাকেনা হচ্ছে। এসব বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা আসছে। তারা কম দামে ডিমওয়ালা মা ইলিশ মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার অনেকেই ইলিশ কিনে শুধু নিজের ফ্রিজই ভরছেন না, সেই সাথে আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে পাঠাচ্ছেন। অপর দিকে স্থানীয় প্রশাসন প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে আটক জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে জেল জরিমানা ও কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধংস করছে। তাতেও থামছে না মা ইলিশ শিকার। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন, অভিযানের খবর আগে ভাগেই জেলেদের কাছে পৌছে দিচ্ছে এক শ্রেনীর দালাল চক্র।
এ জন্য স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং কতিপয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নৌকা প্রতি নির্ধারিত হারে উৎকোচ দিতে হয়েছে অভিযানের শুরুতেই। এবিষয়ে খাষপুখুরিয়ার এক জেলে জানান, তারা নির্বিঘ্নে ইলিশ মাছ ধরার জন্য নৌকা প্রতি তিন হাজার টাকা হিসেবে একজন জনপ্রতিনিধিকে টাকা দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ৫০টি নৌকা থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। থানা পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব ওই জনপ্রতিনিধি নিয়েছে বলে স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছে।

এবিষয়ে চৌহালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আতাউর রহমান ও অফিসের ক্ষেত্রসহকারী শফিকুল ইসলাম জানান, মৎস্য অফিসের কেউ অনৈতিক সুবিধার সাথে জড়িত না। আমরা অভিযানে ব্যস্ত আছি, অন্য কেউ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকলে সেটা আমাদের কিছু করার নেই। তবে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান মওদুদ আহমেদ জানান, যমুনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে আটক করা হচ্ছে অসাধু জেলেদের। জব্দ করা হচ্ছে কারেন্ট জাল ও মাছ। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আটক জেলেদের করা হচ্ছে জরিমানা এবং দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড। পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে জাল ও এতিম খানায় বিতরণ করা হচ্ছে জব্দকৃত মাছ। তিনি আরও জানান, বিশাল যমুনা নদীতে একটি টিম নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য তারপরও মা ইলিশ রক্ষায় শতভাগ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি
