চীনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বাড়বে

স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ সময় পর কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে চীন। সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুরু হওয়ায় চলতি বছর দেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বাড়বে। সম্প্রতি পেট্রোচায়নার এক নির্বাহী কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।

প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ব্যবহার নিয়ে তেমন কিছু জানানো যায়নি। কেননা স্পট মূল্যের ওপর এটি নির্ভরশীল। স্পট মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও লকডাউন বিধিনিষেধের কারণে গত বছর চীনে এলএনজি আমদানি ২০ শতাংশ কমে ৬ কোটি ৩৪ লাখ টনে নেমে আসে।

টোকিওতে আয়োজিত এনার্জি কনফারেন্সে রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দেন পেট্রোচায়না ইন্টারন্যাশনালের গ্লোবাল এলএনজি ও নিউ এনার্জিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওউ ঝ্যাং। তিনি বলেন, ‘‌আমাদের প্রত্যাশা ২০২২ সালের তুলনায় চলতি বছর প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার আরো বেড়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে চীনে আপাত গ্যাসের ব্যবহার ছিল ৩৬ হাজার ৬৩০ কোটি ঘনমিটার। ঝ্যাং বলেন, ‘‌চলতি বছরও গ্যাস ব্যবহারের দিক থেকে আমরা ২০২২ সালের পর্যায়ে থাকতে পারব বলে আশা করছি। সেই সঙ্গে এ বছর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরো বেশি হতে পারে।’

পেট্রোচায়না মূলত চীনের ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তালিকাভুক্ত সহায়ক প্রতিষ্ঠান এবং চীনের অন্যতম গ্যাস আমদানিকারক। গৃহস্থালি পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহসহ পাইপলাইন ইমপোর্টে এলএনজি ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা জানায়, লকডাউনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি বাড়তে পারে। সে হিসেবে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ১০ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝ্যাং বলেন, ‘‌চলতি বছর স্পট মার্কেটের দাম পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা আগের বছরের মতো পদক্ষেপ নিতে পারি। এরপর বেশি গ্যাস কেনা হবে না কম তা নির্ধারণ করা হবে। যদি আগের বছরের মতো স্পট এলএনজির মূল্য বেশি থাকে, তাহলে চীনের এটি ব্যাপক হারে কেনার কোনো সম্ভাবনা নেই।’ চীনে পাইপলাইন ও এলএনজি গ্যাসের অন্যতম সরবরাহকারী হচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনে সামরিক বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্তের পরও মস্কোর সঙ্গে চীনের ভালো সম্পর্ক। এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সেনাবাহিনী পাঠানোর বিষয়টিকে আগ্রাসন আখ্যা দেয়নি বেইজিং। ঝ্যাং জানান, সিএনপিসির মাধ্যমে রাশিয়ার ইয়ামাল এলএনজি ও আর্কটিক এলএনজি২ প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার হলো পেট্রোচায়না। এর মাধ্যমে পাইপলাইনে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি করে চীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *