চীনের এআই উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ঝুঁকি: বেসেন্ট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে চীনের দ্রুত অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। তার মতে, চাকরি হারানো বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগের চেয়েও এআই প্রতিযোগিতায় বেইজিংয়ের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ওয়াশিংটনের জন্য বেশি চিন্তার বিষয়।
নিউইয়র্কের ইকোনমিক ক্লাবে দেওয়া এক বক্তৃতায় স্কট বেসেন্ট বলেন, বর্তমানে এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকায় চীন আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে। তবে এই ব্যবধান ধরে রাখতে না পারলে ভবিষ্যতে আমেরিকার বৈশ্বিক নেতৃত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গত মাসে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশ এআই গভর্নেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সে সময় বলেছিলেন, বিশ্বের দুই প্রধান এআই শক্তি হিসেবে মানব সভ্যতার উন্নয়ন ও বৈশ্বিক কল্যাণে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে কাজ করা উচিত।
তবে অভ্যন্তরীণভাবে ডেটা সেন্টারের বাড়তি বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার, পরিবেশগত প্রভাব এবং কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন এআই অবকাঠামো নির্মাণকে জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণেই প্রযুক্তিগত আধিপত্য ধরে রাখতে চীনের ওপর উন্নত এআই চিপ রপ্তানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে ওয়াশিংটন।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সম্প্রতি চীন মার্কিন প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪৬টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। পাশাপাশি এমপি মেটেরিয়ালস এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থসহ ১০টি মার্কিন কোম্পানির কাছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রপ্তানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, রোবোটিকস ও আধুনিক প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত ১৭টি বিরল খনিজের বৈশ্বিক বাজারে প্রায় একচেটিয়া প্রভাব রয়েছে বেইজিংয়ের হাতে।
স্কট বেসেন্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা কিংবা প্রযুক্তি চুরির যেকোনো প্রচেষ্টার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জাহাজ নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের মতো কৌশলগত খাতে মার্কিন নেতৃত্ব ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তার ভাষায়, সম্ভাব্য যেকোনো সংকট বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতাই একটি দেশের প্রকৃত শক্তি ও নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান সূচক হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
