চীনা জাহাজের আর্কটিক যাত্রা, ইউরোপে পণ্য পৌঁছাবে অর্ধেক সময়ে
উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলের জলপথ দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে একটি চীনা কনটেইনার জাহাজ। এই পথে সুয়েজ খাল হয়ে যাওয়ার তুলনায় প্রায় অর্ধেক সময়ে পণ্য ইউরোপে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
‘দুবাই টাওয়ার’ নামের জাহাজটি শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় চীনের পূর্বাঞ্চলীয় নিংবো বন্দর ছেড়ে যায়। জাহাজটি প্রথমে উত্তরের দিকে যাবে। এরপর বেরিং প্রণালি পেরিয়ে রাশিয়ার উত্তর উপকূলের পাশ দিয়ে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে।
সূচি অনুযায়ী, জাহাজটির ৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এরপর জার্মানির হামবুর্গ এবং পোল্যান্ডের গদিনিয়া বন্দরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
চীন থেকে ইউরোপের এই নৌপথকে নর্দার্ন সি রুট (এনএসআর) বলা হয়। সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপে যাওয়ার তুলনায় এই পথ অনেক ছোট। ফলে পণ্য পরিবহনে সময়ও কম লাগে।
এ ছাড়া এই পথে লোহিত সাগর এড়িয়ে চলা যায়। বর্তমানে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে আর্কটিকের এই পথ সারা বছর ব্যবহার করা যায় না। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বরফ গলে জলপথ কিছুটা উন্মুক্ত হলে তখন জাহাজ চলাচল করতে পারে। অন্য সময় অতিরিক্ত বরফের কারণে আইসব্রেকার বা বরফভাঙা বিশেষ জাহাজের প্রয়োজন হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আর্কটিক রুটকে বিকল্প নৌপথ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন দেশের জাহাজও এই পথে চলাচল করেছে। ২০১৮ সালে ডেনমার্কের শিপিং কোম্পানি মেরস্ক প্রথম এই পথ ব্যবহার করে। গত বছর ২৩টি কনটেইনার জাহাজ নর্দার্ন সি রুট দিয়ে চলাচল করেছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৫টি।
তবে আর্কটিক দিয়ে জাহাজ চলাচল বাড়ায় পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই পথে জাহাজের সংখ্যা বাড়লে আর্কটিকের সামুদ্রিক বরফ দ্রুত গলতে পারে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আর্কটিকের বরফ এমনিতেই দ্রুত কমছে। এর মধ্যে জাহাজ চলাচল বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদেরা।
পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে বিশ্বের কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানি আর্কটিকের বাণিজ্যিক নৌপথ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের সিএমএ সিজিএম, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এমএসসি এবং জার্মানির হ্যাপাগ-লয়েড।
তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে আর্কটিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে চীনের জন্য এই পথের গুরুত্ব বাড়তে পারে।
আর্কটিক অঞ্চলে বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার বাড়াতে চীন ইতোমধ্যে ‘পোলার সিল্ক রোড’ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ফলে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুযোগের পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও সামনে রেখে নর্দার্ন সি রুট নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে।
