এডিপিতে থোক বরাদ্দে রেকর্ড

স্টাফ রিপোর্টার

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ইতিহাসের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অধিকাংশই বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এবার একলাখ কোটি টাকার বেশি থোক বরাদ্দ রাখতে যাচ্ছে সরকার, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত তিন লাখ কোটি টাকার এডিপির মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ বা মোট বরাদ্দের ৩৯ শতাংশ রাখা হচ্ছে ‘থোক’ ও ‘বিশেষ বরাদ্দ’ হিসেবে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প অনুমোদনের সুবিধার্থে ১ লাখ ৭ হাজার ২০১ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ প্রয়োজন মেটাতে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে আরও ৯ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ৬১ শতাংশ।

থোক বরাদ্দের অর্থ যাবে কৃষক কার্ডে
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উপলক্ষে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সারাদেশে প্রি-পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের প্রত্যেকের কাছে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা নগদ অর্থ চলে যায়।

কার্ড পাওয়া কৃষকরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। সেগুলো হলো- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বিমা সুবিধা ও ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুবিধা।

কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য বা প্রাণী খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগীকে এ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীসময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ৮০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে যাচ্ছে সরকার। এসব চাহিদা মেটাতেই মূলত এডিবিতে থোক বরাদ্দের রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে সরকার।

রেকর্ড থোক বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন
বড় আকারের এডিপি ও বিপুল থোক বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ অবস্থায় আরও বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

প্রস্তাবিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি এবং কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি। পাশাপাশি ১ হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এডিপির আকার না বাড়িয়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক ঋণের পরিস্থিতি ভালো নয়। আমাদের বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বাজেটের বড় অংশই বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে চলে যাচ্ছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এটা বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি সঠিকভাবে প্রণয়ন করা জরুরি। সাশ্রয়ী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি করতে হবে। এডিপিতে অহেতুক ব্যয় কমাতে হবে। বিদেশ ভ্রমণের নামে প্রকল্পের টাকা খরচ করা যাবে না। যদি অপচয় রোধ করা যায় তাহলে অল্প অর্থে বেশি উপকার পেতে পারি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *