এক বছরে বিদেশি ব্যাংকের মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা
বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত ও মুনাফা কমেছে। গত এক বছরে ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ১১১ কোটি টাকা। একই সময়ে সম্মিলিত মুনাফা কমেছে ৪৯৪ কোটি টাকা, যা প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম: প্রবণতা ও পরিচালনাগত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত মুনাফা কমে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। তবে আমানত ও মুনাফা কমার কারণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বাংলাদেশে বর্তমানে নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬৭টি শাখা ও ছয়টি উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংকগুলো হলো এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটিব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও ব্যাংক আলফালাহ।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের বড় অংশ রয়েছে চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবে। গত জুন শেষে এ ধরনের হিসাবে জমা ছিল ৩২ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। বিদেশি মুদ্রায় খোলা হিসাবে আমানত ছিল ১৭ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। আর মেয়াদি আমানতের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।
আমানত কমলেও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ সামান্য বেড়েছে। গত জুন শেষে এসব ব্যাংকের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঋণ বেড়েছে ৩৪৯ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক হিসাবে, বিদেশি ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বেশি ঋণ গেছে শিল্প খাতে। গত জুন শেষে এ খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। বিপরীতে পরিবহন খাতে ঋণ ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা। একই সময়ে নির্মাণ খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২৮ কোটি টাকা।
