তুরস্কে ফেরত যাচ্ছে ৭ লাখ ৩০ হাজার ডলারের যন্ত্রপাতি

স্টাফ রিপোর্টার

কারখানায় স্থাপনের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বাংলাদেশে আমদানি করা ৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের নতুন ও অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি তুরস্কে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের যৌথ মালিকানাধীন শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কোম্পানি লিমিটেড।

এজন্য শর্তসাপেক্ষে শুল্ক-করমুক্ত পুনঃরপ্তানির অনুমোদন চেয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা এক সেট নতুন ‘সি-উইড প্রোডাকশন লাইন’ মূল সরবরাহকারীর মনোনীত প্রতিষ্ঠানের কাছে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হয়। যন্ত্রপাতিটি বাংলাদেশে স্থাপন, চালু কিংবা উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়নি বলে কাস্টমসের সরেজমিনে পরিদর্শনেও উঠে এসেছে। পুনঃরপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক-করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এজন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

এনবিআর থেকে অর্থমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কোম্পানি লিমিটেড চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৫১৩-৬১৬ নম্বর প্লটে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের ২ এপ্রিলের বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১০১৫৩০-এর মাধ্যমে এক সেট নতুন সি-উইড প্রোডাকশন লাইন আমদানি করে। পরে কারখানায় যন্ত্রপাতি স্থাপনের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ৫ অক্টোবর এটি পুনঃরপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করে।

প্রতিষ্ঠানটির আবেদনে বলা হয়, আমদানি করা যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে স্থাপন বা চালু করা হয়নি। উৎপাদন কিংবা বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া আমদানির বিপরীতে পরিশোধিত ৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুনঃরপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

পরিদর্শনে নতুন ও অব্যবহৃত পাওয়ার তথ্য
এনবিআর থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টম কর্তৃপক্ষ যন্ত্রপাতিটি পুনঃরপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। পরে এ বিষয়ে আলোচনা ও যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে যন্ত্রপাতিটি সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, চট্টগ্রামের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্ত্রপাতিটি সরেজমিনে পরীক্ষা করে সম্পূর্ণ নতুন ও অব্যবহৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এটি বাংলাদেশে স্থাপন, চালু কিংবা উৎপাদন বা বাণিজ্যিক কোনো কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে যন্ত্রপাতিটি মূল সরবরাহকারীর মনোনীত প্রতিষ্ঠানের কাছে তুরস্কে শুল্ক-করমুক্তভাবে ফেরত পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মানতে হবে যেসব শর্ত
এনবিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, যন্ত্রপাতি পুনঃরপ্তানির আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র দাখিল করতে হবে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লিয়েন ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র এবং বেপজার অনাপত্তিপত্র বা অনুমোদন জমা দিতে হবে। আমদানির বিপরীতে পরিশোধিত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণপত্রও দাখিল করতে হবে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের মনোনীত অন্তত একজন সহকারী কমিশনারের তত্ত্বাবধানে যন্ত্রপাতির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। পরীক্ষার ফলাফল যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। কাস্টমস কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কনটেইনারে যন্ত্রপাতি বোঝাই করে সিল করতে হবে। পুনঃরপ্তানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চালানটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে।

পুনঃরপ্তানির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের কোনো উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে পাঠানো যাবে না। যন্ত্রপাতি আমদানিসংক্রান্ত দলিল যাচাই করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিশ্চিতকরণ সম্পন্ন করতে হবে। মূল সরবরাহকারীর মনোনীত প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মূল সরবরাহকারীর অনাপত্তিপত্র এবং পুনঃরপ্তানিসংক্রান্ত বাণিজ্যিক ও পরিবহন দলিলসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

পুনঃরপ্তানি শেষ হওয়ার পর রপ্তানি ঘোষণা, শিপিং বিল, বিল অব লেডিং বা এয়ারওয়ে বিল, ‘শিপড অন বোর্ড’-এর প্রমাণক এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে জমা দিতে হবে। পুনঃরপ্তানি সম্পন্ন হওয়ার তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রপ্তানিসংক্রান্ত দলিল ও ‘শিপড অন বোর্ড’-এর প্রমাণক জমা দেওয়ার শর্তও রাখা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ব্যাংক গ্যারান্টি নম্বর ০০১১৩১২০৫০০৩১২৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৬-এর বিষয়ে পুনঃরপ্তানির প্রমাণক ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দলিল যাচাই করে অবমুক্তির ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে প্রক্রিয়া
এনবিআরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে যন্ত্রপাতির পুনঃরপ্তানি সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত বা প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, লিজ টোব্যাকো মেশিনারি কোম্পানি লিমিটেড আমদানি করা যন্ত্রপাতি দেশে ব্যবহার না হওয়া, কাস্টমসের পরিদর্শনে নতুন ও অব্যবহৃত অবস্থায় পাওয়া এবং আমদানির বিপরীতে পরিশোধিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের তথ্য বিবেচনায় নিয়ে শর্তসাপেক্ষে পুনঃরপ্তানির অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআর এরই মধ্যে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এখন অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।

এ বিষয়ে কাস্টমস, রপ্তানি ও বন্ড শাখার দ্বিতীয় সচিব কাজী রায়হানুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *