মিহাস ফেয়ারে দুই মিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ পেয়েছে ‘প্রাণ’
মালয়েশিয়ার মিহাস ফেয়ার (মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস) শেষ হচ্ছে আজ শনিবার। এবারও মেলায় ব্যাপক সাড়া পেয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘প্রাণ’। কোম্পানিটি প্রায় দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্রয়াদেশ পেয়েছে।
এবার প্রাণ আটটি স্টলে প্রায় চার হাজার পণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছে। মেলার শেষ দিনে কথা হয় প্রাণ পণ্যের পরিবেশক পিনাকল ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, গতবছর এ মেলা থেকে দেড় মিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ পেয়েছিল প্রাণ। এবার সেটা প্রায় দুই মিলিয়ন ডলার হয়েছে। গত তিনদিন ও আজ পর্যন্ত আমরা এ অর্ডার পেয়েছি। ইউরোপের ফ্রান্স, আফ্রিকার সেনেগাল, তিউনিসিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া, কাতার, ওমান এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনাই থেকে বেশি ক্রয়াদেশ এসেছে।
মিহাসের এ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণ-এর পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখেছি, ভবিষ্যতে মালয়েশিয়া ও আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রাণ-এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সহায়তা করবে বলেও জানান পিনাকল ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় হালাল পণ্যের প্রদর্শনী এই মিহাস। এবারের মেলায় বিশ্বের ৯০টি দেশ থেকে ২ হাজার ৪০০ বুথের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্য পরিবেশন করছে। ফুড ও বেভারেজ, ফার্মাসিউটিক্যাল, পোশাকসহ ১৪টি খাতের ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য তুলে ধরেছেন। ৫০ হাজারের বেশি দর্শনার্থী মেলায় প্রতিবছর ভিজিট করেন।
গত বৃহস্পতিবার শুরু হয় চার দিনের এই মেলায় প্রাণ ছাড়াও বাংলাদেশের এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নারিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেড অংশ নিয়েছে।
মেলার শেষ দিনে নারিশ ফুডসের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হাসিব বলেন, মেলায় আমরা নতুন নতুন পণ্য এনেছি। অনেক দেশের ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি পরবর্তীতে ভালো একটি সাড়া পাবো।
নারিশ ফুডস লিমিটেডের হেড অব এক্সপার্ট আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের কোম্পানি ৭ জন বায়ার পেয়েছে। মালোশিয়া, ব্রুনাই ও ইউকের তারা। আশা করছি, ৫০ থেকে ৭০ হাজার মার্কিন ডলারের অর্ডার পাবো।
বর্তমানে বিশ্বে হালাল ফুডের বাজার অনেক বড়। সারাবিশ্বে হালাল ফুডের বাজার প্রায় তিন ট্রিলিয়নের কাছাকাছি। বিশ্বের ২৫০ কোটি মুসলিম জনসংখ্যা এবং এই সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় হালাল ফুডের ব্যাপক বাজার রয়েছে। শুধু মালয়েশিয়া কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নয়, বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকাসহ বিশ্বের প্রতিটি জায়গায় হালাল ফুডের বাজার তৈরি হয়েছে।
মালয়েশিয়া মিহাস ফেয়ার হালাল অর্থনীতিতে প্রবেশের জন্য ব্যাপক সুযোগ তৈরি করে। কারণ, মিহাস ফেয়ারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য হাজির হন। আবার অনেক ব্যবসায়ী এখান থেকে হালাল পণ্যের বাজার সম্পর্কে ধারণা পান এবং সে অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিজেদের তৈরি করেন। তাই বিশাল এই অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে মিহাস ফেয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
