পোশাক খাতে শ্রমিকবান্ধব ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার

দেশের পোশাক খাতে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর শ্রমিকবান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অটোমেশন ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়ায় শ্রমিকের অধিকার, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, নতুন দক্ষতা অর্জন, সামাজিক সুরক্ষা ও নীতিগত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের নাইন্টিস লাউঞ্জে ‘বাংলাদেশের পোশাক খাতে শ্রমিকের দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরবিষয়ক নীতিগত ব্যবস্থা উন্নয়ন’ শীর্ষক সংলাপে এ কথা বলেন বক্তারা।

ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। এতে সহায়তা করে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ‘ফ্যাশন ফরওয়ার্ড’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটির লক্ষ্য, বাংলাদেশের পোশাক খাতের রূপান্তরকে শ্রমিকের অধিকার, জীবিকা ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতার প্রতি সংবেদনশীল, ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা।

বিজিএমইএ’র জাস্ট ট্রানজিশনবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আমির সেলিম বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাত প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং দেশের জিডিপির ১০ দশমিক ৪ শতাংশে অবদান রাখছে। বৈশ্বিক শ্রমবাজারে দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এ খাতকে এখনই প্রস্তুত হতে হবে। তিনি ভবিষ্যৎ উপযোগী কাজের জন্য শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনঃপ্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, শ্রমের মর্যাদা রক্ষা এবং স্মার্ট কারখানা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেন।

ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ন্যায্য ও টেকসই শিল্প রূপান্তরের জন্য কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত জবাবদিহি জরুরি। আধুনিক প্রশিক্ষণ, পরিচালনাগত অবহেলা কমানো এবং প্রতিটি শিল্পাঞ্চলে পরিবেশবান্ধব মানদণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে শ্রমিকের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য) আসাদুজ্জামান বলেন, শিল্প খাতে অনবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। তিনি কারখানার মালিকদের গুদাম ও কারখানার ছাদে সোলার ব্যবস্থা স্থাপন, জ্বালানি অপচয় কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম বলেন, অটোমেশন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে শ্রমিকদের অপ্রয়োজনীয় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। নতুন প্রযুক্তি চালুর সময় কারখানার মালিক ও শিল্প সংগঠনগুলোর উচিত শ্রমিকদের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামোর আমদানি শুল্ক কমানো, সরকারি প্রণোদনা এবং সবুজ অর্থায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন।

শ্রমিক নেতা নাইমুল আহসান জুয়েল পোশাক খাতের জন্য একটি পৃথক আরএমজি জাস্ট ট্রানজিশন ফান্ড গঠনের আহ্বান জানান। মালিক, ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় এ তহবিল গঠন করা যেতে পারে বলে তিনি মত দেন। তিনি বলেন, অটোমেশনের কারণে যেসব শ্রমিক কাজ হারাবেন, তাঁদের অন্তত তিন মাসের ভাতা এবং লক্ষ্যভিত্তিক পুনর্দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক শ্রমশক্তিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন, যাতে চাকরির নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার পাবলো নেরুদা বলেন, অটোমেশন যেন শ্রমিকের মৌলিক অধিকার ও জীবিকা কেড়ে না নেয়। একটি উৎপাদন লাইনে অটোমেশনের কারণে যখন শ্রমিকের সংখ্যা কমে যায়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব কারখানার মালিকদের নিতে হবে। তিনি বলেন, ফ্যাশন ফরওয়ার্ড প্রকল্পের উদ্যোগের মাধ্যমে গাজীপুরের শ্রমিকদের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত) শিরিনা আক্তার, ব্লাস্টের সিনিয়র রিসার্চ অফিসার ফাহাদ বিন সিদ্দিকসহ বিভিন্ন অংশীজন ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *