সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে বড় উল্লম্ফন
নতুন অর্থবছরের শুরুতেই জাতীয় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রির বিপরীতে আগের সঞ্চয়পত্রের আসল ও মুনাফা পরিশোধের পর সরকারের হাতে নিট এসেছে ২ হাজার ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এর বিপরীতে আগের অর্থবছরের শেষ মাস জুনে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক। ওই মাসে নতুন করে বিক্রির চেয়ে আগের সঞ্চয়পত্রের আসল ও মুনাফা বাবদ ৩৬৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছিল। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো ১২ মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৪৩৬ কোটি টাকা। অথচ নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসেই এর প্রায় পাঁচগুণ নিট বিক্রি হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতা ও আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের প্রভাব সঞ্চয়পত্রের বিক্রিতে পড়তে পারে। ব্যাংক আমানতের সুদহার বাড়লেও সব ব্যাংকের ওপর গ্রাহকদের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরেনি। পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগের পরিবেশ খুব একটা শক্তিশালী নয়। ফলে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে অনেকে সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছেন।
এর সঙ্গে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও বিক্রি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
বেড়েছে সরকারের ঋণ স্থিতি:
সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই শেষে সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। জুন শেষে এ ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক মাসে সরকারের সঞ্চয়পত্র ঋণ বেড়েছে ২ হাজার ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়।
তবে পুরো অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় নিট বিক্রি হয়েছে খুবই কম। ওই অর্থবছরে মোট ৯২ হাজার ৬১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। বিপরীতে আগের সঞ্চয়পত্রের আসল ও মুনাফা বাবদ সরকারকে পরিশোধ করতে হয়েছে ৯২ হাজার ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু মুনাফা পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৫১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
