ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলা: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন
ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার মাত্র কিছুক্ষণ আগে একই রেলপথ দিয়ে যাওয়া অন্য একটি ট্রেনে ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তবে হামলার ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়া জানিয়েছে,পশ্চিমাঞ্চলীয় ভলিন অঞ্চলের ইয়াহোদিন এলাকায় পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। হামলার আশঙ্কা আগে থেকেই শনাক্ত হওয়ায় ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
আরো পড়ুন
যুদ্ধ অবসানে রাশিয়া আলোচনায় প্রস্তুত: জেলেনস্কি
ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যা জানালেন জেলেনস্কি
ইউক্রেনে অস্ত্রাগারে রুশ হামলা, নিহত ৩৭
দালালের খপ্পরে রাশিয়া, যুদ্ধের ফ্রন্টে ড্রোন হামলায় পঙ্গু রাজন
বরিস জনসনের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। কিয়েভে একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর ফেরার পথে তারা একই রেলপথ ব্যবহার করেন। তবে তারা যে ট্রেনে ছিলেন, সেটি হামলার শিকার হয়নি।
রাশিয়া জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ইউক্রেনের ‘রেল অবকাঠামোতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়া দাবি করেছে, রুশ বাহিনী সম্ভবত কূটনৈতিক ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছিল। হামলার সময় স্টেশনে থাকা অন্য একটি ট্রেনে সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রাউসও উপস্থিত ছিলেন।
রুশ হামলার আশঙ্কায় ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনায় কূটনৈতিক ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে যায়। আর যে ট্রেনটি হামলার শিকার হয়, সেটির যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল হামলার মাত্র ১৫মিনিট আগে।
হামলার পর বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেন, “আজ সকালে পোল্যান্ড সীমান্তে ইউক্রেনের একটি দাঁড়িয়ে থাকা লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) উড়িয়ে দেওয়ার পেছনে পুতিনের কী বিকৃত যুক্তি কাজ করেছে, তা আমার জানা নেই।” তিনি এ ঘটনাকে ইউক্রেনীয়দের ওপর প্রতিদিন ঘটে চলা অর্থহীন হামলার সঙ্গে তুলনা করেন এবং ইউক্রেনকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা এই হামলাকে ‘বর্বর’ অ্যাখ্যা দিয়ে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান। পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে আঘাত হানার এ ঘটনার পর পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। তিনি বলেন, “রুশ বাহিনীর উসকানি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। তারা আমাদের সীমান্তের খুব কাছাকাছি চলে আসছে।”
তথ্যসূত্র: বিবিসি
