শেয়ারবাজারে দরপতন চলছেই

স্টাফ রিপোর্টার

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস আজ রোববার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। তবে দুই বাজারেই বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। ফলে টানা তিন কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকলো শেয়ারবাজার।

রোববার (১৬ আগস্ট) ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরেুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার কারণে লেনদেনের এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এতে পতন থেকে বেরিয়ে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরার আশা করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা।

তবে প্রথম দেড় ঘণ্টার লেনদেন শেষ হওয়ার পর বাজারের চিত্র বদলে যেতে থাকে। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। লেনদেনের শেষদিকে বাজারে এক প্রকার ঢালাও দরপতন হয়। ভালো-মন্দ সব খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০২ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৭টির এবং ৪১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২৫টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১০ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬২টির এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬০টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৪টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে নেমে গেছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৭১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২০৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকার। ২২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সমরিতা হাসপাতাল।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সেনা ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম কটন, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইল, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৬৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১২টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *