ফাইফারের পথে ইতিহাস গড়লেন মিরাজ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের সহ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার পর বল হাতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। এই পারফরম্যান্স তাকে জায়গা করে দিয়েছে ইতিহাসে।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে একে একে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ উইকেটের মাইলফলক পূর্ণ করেছেন মিরাজ। চতুর্থ শিকার প্যাট কামিন্সকে আউট করার সঙ্গে সঙ্গেই তার নাম উঠেছে আরও বড় এক রেকর্ডে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ উইকেটের পাশাপাশি ১০০০ রান করা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার এখন মিরাজ।
এর আগে এই ডাবল অর্জনের কীর্তি ছিল মাত্র চারজনের। ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা, অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স এবং ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস। মিরাজ ৩২টি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৪৩৬ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ঠিক ১০০টি উইকেট।
বাংলাদেশের হয়ে অবশ্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি সবার আগে গড়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। মিরাজ হলেন এই তালিকায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার। চলমান টেস্টের চতুর্থ দিনে মিরাজের শিকারের তালিকায় যোগ হয়েছে অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সের নাম। আগের দিনই স্টিভেন স্মিথকে বোল্ড করে এবং পরে তার ক্যাচ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি।
টেস্ট ক্যারিয়ারের হিসাবেও মিরাজের পারফরম্যান্স বেশ সমৃদ্ধ। ৫৯ ম্যাচে তার উইকেটসংখ্যা ২২৩। ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন ১৪ বার এবং ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে তিনবার। ব্যাট হাতে করেছেন ২২৯৬ রান, গড় ২৪.১৭।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেও বাংলাদেশকে ম্যাচে চালকের আসনে রেখেছিলেন মিরাজ। দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে। এরপর মিরাজের ঘূর্ণিতে দ্রুত তিনটি উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
প্রথমে অ্যালেক্স ক্যারিকে ৩০ রানে ফিরিয়ে গ্রিনের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ। এরপর মাত্র ৫ রান করা বেউ ওয়েবস্টারকে বোল্ড করেন তিনি। কিছুক্ষণ পর প্যাট কামিন্সও ৮ রান করে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
