বেইজিংয়ে ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠক চলছে

স্টাফ রিপোর্টার

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসেডন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠকটি শুরু হয়। খবর সিবিএস নিউজের।

বৈঠক শুরু আগে গেট হল অব দ্য পিপলের বাইরে শি জিনপিং ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানান। একটি সুসজ্জিত সামরিক ব্যান্ড দল, মার্চিং ইউনিট এবং দুই দেশের পতাকা হাতে উল্লসিত শিশুদের উপস্থিতিতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো হয়। ২০১৭ সালের পর এটিই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর।

বৈঠকের শুরুতে দুই নেতাই ইতিবাচক মন্তব্য করেন। শি জিনপিং বলেন, “একটি স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্বের জন্য মঙ্গলজনক। আমাদের একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া উচিত।”

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শি জিনপিংকে একজন ‘বন্ধু’ ও ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, দুই দেশের মধ্যকার সব মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব এবং যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে ব্যবসা করতে খুবই আগ্রহী।

২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দফায় দফায় শুল্ক আরোপের ফলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেমি-কন্ডাক্টর, বিরল খনিজ ও সয়াবিন আমদানির মতো বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমানে সেই উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ও চীনে মার্কিন খাদ্যপণ্য রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার একটি ‘ইউএস-চীন বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা দুই দেশের বাণিজ্য সমন্বয় করবে।

এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। টেসলার ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং অ্যাপলের বিদায়ী সিইও টিম কুকের মতো ব্যক্তিত্বরা বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এনভিডিয়া বর্তমানে চীনে তাদের উন্নত চিপ বিক্রির বাজার প্রসারিত করতে বিশেষ আগ্রহী।

বাণিজ্য প্রধান বিষয় হলেও আলোচনার টেবিলে ছায়া ফেলছে ইরান যুদ্ধ। ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনে চীন, অন্যদিকে আমেরিকা বর্তমানে ইরানের সাথে এক কঠিন যুদ্ধে লিপ্ত। মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিও জানান, ইরানকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে চীনকে চাপ দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন রয়েছে। তাইওয়ান বিশ্বের উন্নত সেমি-কন্ডাক্টরের প্রধান উৎস হওয়ায় সেখানকার সরকার আশঙ্কা করছে যে, চীনের সঙ্গে বড় কোনো চুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাদের সমর্থনে ছাড় দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *