জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়াল

স্টাফ রিপোর্টার

ইরানে ব্যাপক আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, এমন গুঞ্জনের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলে আন্তর্জাতিক আদর্শ ব্রেন্টের দাম আজ সকালে ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। খবর আল জাজিরা।

এর ফলে সূচকটি ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। ওইদিন ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্টের দাম সাময়িকভাবে ১১৯ ডলারে ওঠেছিল।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সেনারা এলে তাদের ‘আগুনে পুড়িয়ে দেয়া’ হবে এবং ‘শাস্তি’র আওতায় থাকবে ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্ররাও।

এর মধ্যে দিন দুই-এক আগে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা প্রথমবারের মতো এ যুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা সম্প্রসারিত করেছে।

এদিকে যুদ্ধের পরিসর বাড়ার এ আশঙ্কা শেয়ারবাজারেও চাপ তৈরি করেছে। আজ স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক উভয়ই ৪ শতাংশের বেশি সংকুচিত হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অনেক দেশকে জরুরি জ্বালানি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়তে পারে।

অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের সিইও গ্রেগ নিউম্যান বলেন, পরিস্থিতির প্রকৃত প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তার ভাষায়, ‘বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ একটি নির্দিষ্ট চক্রে চলে। ইউরোপে এই ঘাটতির প্রভাব পুরোপুরি বুঝতে প্রায় তিন সপ্তাহ লাগে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্রেন্ট এখন বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করতে শুরু করেছে। আমরা মনে করি ধীরে ধীরে দাম ১২০ ডলার বা তারও বেশি হবে।’

নিউম্যানের মতে, ‘বাজারে এমন সরবরাহ বিঘ্ন আগে কখনো দেখা যায়নি। বাস্তব চিত্রটি আগামী কয়েক মাসে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *