ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিতে ‘ভয়াবহ সংকটের’ আশঙ্কা ইউরোপীয় ইউনিয়নের

স্টাফ রিপোর্টার

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রচেষ্টায় ডেনমার্কসহ ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের সম্পর্কে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নেতারা শনিবার সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘বিপজ্জনক নিম্নমুখী সর্পিল ধারা’ বা ভয়াবহ সংকটের সৃষ্টি করবে। খবর রয়টার্স।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই শুল্ক ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘ইউরোপ ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত থাকবে এবং নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।‘

ইইউ-এর শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই শুল্ক আরোপের ফলে আমেরিকা ও ইউরোপ—উভয় পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরো যোগ করেন, ‘মিত্রদের মধ্যে এই বিভাজনে চীন ও রাশিয়া লাভবান হচ্ছে। যদি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকে, তবে তা ন্যাটোর ভেতরেই আলোচনা করা সম্ভব।‘

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহে ডেনমার্ক ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডে সৈন্য মোতায়েন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই শুল্কের ঘোষণা দেন। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রয়যোগ্য নয়।‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *