বায়ুবাহিত চীনের নতুন শক্তি প্রযুক্তি ব্যবহার
নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে চীনের অন্যতম সাম্প্রতিক সাফল্য—একটি বায়ুবাহিত ঘুড়ির মতো দেখতে উচ্চ-উচ্চতার বায়ু শক্তি ব্যবস্থা—নভেম্বরে ইনার মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে সফলভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে, যা দেশটির সবুজ, স্বল্প-কার্বন উন্নয়নের সাধনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই অর্জনটি হলো সবুজ ও স্বল্প-কার্বন উন্নয়নের দিকে চীনের অগ্রযাত্রার মাঝে নতুন শক্তি প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি অংশমাত্র।
গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিলের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে চীন ৭৯.৮ মিলিয়ন কিলোওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধির ৬৮.২ শতাংশ। এর মাধ্যমে চীন বৈশ্বিক বায়ুবিদ্যুৎ বাজারের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ, চীনের মোট স্থাপিত বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২১ মিলিয়ন কিলোওয়াটে পৌঁছেছে, যা বিশ্বের মোট ক্ষমতার ৪৫.৮ শতাংশ।
২০২৫ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে, বায়ু এবং ফটোভোল্টাইক থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ৫৩৬.৪ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা, যা চীনের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ২২.৫ শতাংশ এবং যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৩ শতাংশ-পয়েন্ট বেশি। জাতীয় শক্তি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসের শেষ নাগাদ স্থাপিত বায়ু এবং ফটোভোল্টাইক বিদ্যুতের ক্ষমতা ১.৪৮২ বিলিয়ন কিলোওয়াটে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তাপবিদ্যুৎকে ছাড়িয়ে গেছে
চীনের নতুন শক্তি প্রযুক্তি এবং সরঞ্জাম উৎপাদন বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর নতুন শক্তি প্রযুক্তি বিষয়ক গত বছরের দ্বাদশ দলীয় অধ্যয়ন অধিবেশন অনুসারে, চীন বিশ্বের বৃহত্তম পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং নতুন শক্তির যানবাহন, লিথিয়াম ব্যাটারি ও ফটোভোল্টাইক পণ্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জন করেছে। চীন সবুজ এবং স্বল্প-কার্বন প্রযুক্তিতে ক্রমবর্ধমান প্রাণবন্ত উদ্ভাবন প্রত্যক্ষ করেছে, এবং শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই এই খাতে ৫৩ হাজার উদ্ভাবনী পেটেন্ট মঞ্জুর করা হয়েছে, ‘জুলাই মাসে একটি সংবাদ সম্মেলনে চীনের জাতীয় মেধা সম্পত্তি প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা লিয়াং সিনসিন এই কথা বলেন। ২০২৪ সালের এই সংখ্যাটি ২০২০ সালের সংখ্যার দ্বিগুণ, যা ১৯.২ শতাংশ গড় বার্ষিক বৃদ্ধির হারকে প্রতিফলিত করে। লিয়াং উল্লেখ করেন যে, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং শক্তি সঞ্চয় খাত শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে, যেখানে উদ্ভাবনী পেটেন্টের অনুমোদন যথাক্রমে বার্ষিক ৩৪.৯ শতাংশ এবং ৩২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে—যা সমস্ত সবুজ প্রযুক্তি বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। নীতিগত ক্ষেত্রে, চীন ২৩শে ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সৌর তাপবিদ্যুৎ উন্নয়নে গতি আনতে একটি রোডম্যাপ উন্মোচন করেছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ গিগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতায় পৌঁছানো। এটি অভ্যন্তরীণভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য প্রযুক্তি দিয়ে একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক শিল্প গড়ে তোলার জন্য চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কারণ গত দশকে নির্মাণ ব্যয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই প্রচেষ্টাগুলোর মূলে রয়েছে জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রার প্রতি চীনের প্রতিশ্রুতি। গত মাসে প্রকাশিত ‘কার্বন শিখর এবং কার্বন নিরপেক্ষতা: চীনের পরিকল্পনা ও সমাধান’ শীর্ষক শ্বেতপত্রে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, চীন ২০২০ সালে তার ২০৩০ সালের কার্বন শিখর এবং ২০৬০ সালের কার্বন নিরপেক্ষতার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণার পাঁচ বছর পর বিশ্বের সবচেয়ে পদ্ধতিগত এবং ব্যাপক কার্বন-হ্রাস নীতি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে।
শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এবং নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে চীন বিশ্বের বৃহত্তম এবং দ্রুততম বর্ধনশীল নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম ও সবচেয়ে ব্যাপক নতুন শক্তি শিল্প-শৃঙ্খল তৈরি করেছে এবং নতুন শক্তির যানবাহনের ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম ও দ্রুততম প্রচার ও গ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
সুত্রঃ সিএমজি বাংলা, বেইজিং।
