হোয়াইট হাউজ ছাড়লেন মাস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আকার ছোট করার মিশনে নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসা ধনকুবের ইলন মাস্ক হোয়াইট হাউজ থেকে বিদায় নিয়েছেন। তবে নিজের নেতৃত্বে গড়ে তোলা ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডোজের কার্যক্রম চালু থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসি।

বুধবার (২৮ মে) রাতে ‘স্পেশাল গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ি’ হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় মার্কিন প্রশাসন তার ভূমিকার ইতি টানে। এক্স-এ পোস্ট করে মাস্ক বলেন, ‘অপচয় কমিয়ে আনার দায়িত্বে আমাকে রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ। ডোজ মিশন চলতেই থাকবে—এটা এখন সরকারি সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠছে।‘

গত ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের পর থেকে বছরে ১৩০ দিনের জন্য বিশেষ কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান মাস্ক। তবে ট্রাম্পের বাজেট বিল নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানানোর একদিন পরই বিদায় নিলেন মাস্ক। সিবিএসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, এই বিল আসলে ঘাটতি বাড়াবে এবং ডোজের কাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

প্রথমে অন্তত ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় ছাঁটাইয়ের কথা বললেও পরে সেটি কমিয়ে ১৫০ বিলিয়নে নামিয়ে আনেন মাস্ক। তবে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার সরকারি কর্মী ছাঁটাই বা স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আদালত সেই সিদ্ধান্তকে স্থগিত করেছে। ভুল করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মী ছাঁটাই হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যার মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচির স্টাফও রয়েছেন।

এপ্রিলের শেষ দিকে মাস্ক জানান, তিনি ধাপে ধাপে প্রশাসন থেকে সরে এসে টেসলা ও স্পেসএক্সে মনোযোগ দেবেন। কারণ, ডোজ এখন সবকিছুর জন্য দোষারোপের লক্ষ্যবস্তু হয়ে গেছে।

ডোজে সময় ব্যয় করাকেই টেসলার বিক্রি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বছরের প্রথম প্রান্তিকে টেসলার বিক্রি ১৩% কমেছে, যা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন। শেয়ারমূল্যও এ বছর ৪৫% পর্যন্ত পড়ে যায়, যদিও বর্তমানে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে টেসলা বয়কটের ডাক, বিক্ষোভ, এমনকি ভাঙচুর পর্যন্ত দেখা গেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনাকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

মাস্ক সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, আগামী পাঁচ বছর তিনি টেসলার নেতৃত্বে থাকবেন এবং রাজনৈতিক অনুদান অনেক কমিয়ে আনবেন। উল্লেখ্য, গত বছর তিনি ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *