লাখ কোটি টাকা যাবে সুদ পরিশোধে: আসছে বাজেটে
আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয় সাধারণত মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ডে। এসডিআরের সঙ্গে ডলার ও পাউন্ডের বিনিময় হার ও ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হারের তারতম্য এবং ডলার ও ইউরোর বেঞ্চমার্ক রেট বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। অল্প কয়েক মাসের ব্যবধানে ডলারের বিনিময় হার ৮৫ থেকে ১০৭ টাকায় উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সুদহার বাড়ায় দেশি- বিদেশি ঋণে সুদ ব্যয় অনেক বেড়েছে। আগামী বাজেটে প্রাথমিকভাবে এ খাতে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
বাজেট বাস্তবায়নের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতিবছরই ঋণ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ঋণের সুদ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বর্তমানে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের পরিচালন বাজেটের সবচেয়ে বেশি অংশ ব্যয় হচ্ছে।
জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রাথমিকভাবে পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর বড় অংশই নেওয়া হবে ব্যাংক খাত থেকে। যার অঙ্ক দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি সোয়া লাখ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ নেওয়া হবে। বাকি অর্থ নেওয়া হবে সরকারি চাকরিজীবীদের বিনিয়োগের মাধ্যম জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ (জিপিএফ) অন্যান্য স্থানীয় উৎস থেকে। উচ্চ সুদের কারণে আগামী বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ না নিয়ে এ খাতের পুরোনো ঋণ পরিশোধ করবে সরকার।
সঞ্চয়পত্রের সুদহারের চেয়েও অনেক বেশি সুদবাহী প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা আগামী অর্থবছরে বাড়ানো হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে জিপিএফ থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের সুদের পরিমাণ ১৩ শতাংশ। শুধু সরকারি চাকরিজীবীরাই উচ্চ সুদবাহী জিপিএফ ফান্ডে টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন। আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের পুরোনো বিনিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে যে পরিমাণ ঋণ ফেরত দেবে, তার চেয়ে ৫০ কোটি টাকার কম সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিকল্পনা করছে সরকার।
