ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আইডিআরএর চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্ট

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। একটি বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগে তিনি ক্ষমতার এ অপব্যবহার করেছেন।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানি স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সে মুখ্য নির্বাহীর পদটি শূন্য ছিল প্রায় আড়াই বছর। এ সময় কোম্পানিটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই সিইও’র চলতি দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে সিইও নিয়োগের জন্য আবেদন করা হলে অনুমোদন দেয়া হয়।

আইন অনুসারে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নেই। শুধু তাই নয়, তিনি সিইও পদে নিয়োগের অনুমোদনের জন্য দাখিল করা কাগজপত্রে মিথ্যার আশ্রয় নেন। এসব বিষয়ে মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আপত্তি জানালেও সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন তা আমলে নেননি। বরং প্রভাব খাটিয়ে তিনি ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে অনুমোদন দেন। এ অনুমোদন তিনি দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাবস্থায়।

ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে সিইও হিসেবে অনুমোদন দেয়ার সপ্তাহখানেক পরেই এম মোশাররফ হোসেন আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। স্বদেশ লাইফের পরিচালক বা মালিকদের মধ্যে কারও কারও সঙ্গে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ঘনিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে বলে বীমা খাতে আলোচনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আইন অনুসারে যোগ্যতা না থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে আইডিআরএ’র কর্মকর্তারা এ নিয়োগ অনুমোদনের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে তা আমলে নেয়া হয়নি। সংস্থাটিতে এ সময় কোরাম ছিল না। এ জন্য কোরাম পূর্ণ করতে এম মোশাররফ হোসেন নিয়োগের অনুমোদন সংক্রান্ত নথিতে একবার সদস্য হিসেবে এবং একবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে স্বাক্ষর করে অনুমোদনের সুপারিশ করেন। এছাড়া তিনি ওই নথিতে আইন অনুসারে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়োগ লাভের সব যোগ্যতার শর্ত পূর্ণ করেছেন বলেও মতামত দেন।

ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়োগের অনুমোদন দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয় গত বছরের ১৭ ফেব্রয়ারি। আর অনুমোদন পেতে নিয়ম অনুসারে যেসব কাগজপত্র দাখিল করতে হয়, তা সংস্থাটিতে জমা দেয়া হয় এই আবেদন করার প্রায় সাড়ে তিন মাস পর। দাখিল করা এসব কাগজপত্র অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ প্রত্যায়নেও দেয়া হয় মিথ্যা তথ্য।

এখানেই শেষ নয়, মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়োগের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস পাস ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন বলে দাবি করলেও বিএসএস পাসের কোনো সনদই দাখিল করেননি ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন। সনদটি হারিয়ে গেছে দাবি করে তিনি থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) একটি কপি আইডিআরএ’র কাছে জমা দেন। জিডির এ কপিও প্রত্যায়িত নয়। এসব বিষয় তুলে ধরে আইডিআরএ’র কর্মকর্তারা নিয়োগ অনুমোদন করার ক্ষেত্রে আপত্তি তোলেন। যদিও তা আমলেই নেয়া হয়নি।

আইডিআরএ’র একটি নথিতে দেখা যায়, বিএসএস পাসের সনদ তিনি হারিয়ে ফেলেছেন বলে আইডিআরএ’র কাছ দাবি করেন। হারানো এই সনদ ২৪ বছরেও তিনি তুলতে পারেননি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংস্থাটির পরিচালক আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক গত ১৯ জুলাই দেয়া নথিতে উল্লেখ করেন, ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন ১৯৯৬ সালে তৃতীয় বিভাগে পাস করা বিএসএস ডিগ্রির সার্টিফিকেট হারিয়ে ফেলেননি। হারিয়েছেন তার মার্কশিট। সুতরাং মূল সার্টিকেটের সত্যায়িত অনুলিপি এবং দীর্ঘ ২৪ বছরেও হারানো সনদের ডুপ্লিকেট কপি বোর্ড থেকে না তুলতে পারার অজুহাত কোনোভাবেই সমর্থন বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এছাড়া জিডির অনুলিপি সত্যায়িত করা হয়নি।

আইডিআরএ’র ১৯ আগস্টের আরেক নথিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এ কোম্পানির সিইও নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তিনি (ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন) নিয়ম ভঙ্গ করে বা বীমা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তিন মাসের স্থলে দুই বছর ছয় মাস ধরে কৌশলে সিইও নিয়োগের ব্যবস্থা না করে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নিজেই সিইও’র চলতি দায়িত্ব পালন করে অপরাধ করেছেন।

আইডিআরএ’র নথিতে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলা হলেও গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে স্বদেশ লাইফের সিইও হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আইডিআরএ। আইডিআরএ যে সময় এ সিদ্ধান্ত নেয়, সে সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিতে কোনো নিয়মিত চেয়ারম্যান ছিলেন না। সেই সঙ্গে চার সদস্যের মধ্যে দুই সদস্য পদ খালি ছিল। ফলে কোরাম সংকটে ছিল কর্তৃপক্ষ।

নিয়োগ অনুমোদনে এ সংক্রান্ত নথিতে আইডিআরএ’র বর্তমান চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন তার মতামতে বলেন, ‘কোম্পানিতে দীর্ঘদিন মুখ্য নির্বাহীর পদটি খালি থাকার বিষয়ে সতর্ক করা যেতে পারে। মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা ২০১২ অনুযায়ী প্রস্তাবিত ব্যক্তির যোগ্যতা থাকায় তার নিয়োগ অনুমোদন করা যায়। তবে কর্তৃপক্ষের সভায় তা অনুসমর্থন করে নিতে হবে।’

এই নথিতে ৬ সেপ্টেম্বর সদস্য এবং ৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্বাক্ষর করেন। সদস্য হিসেবে তিনি যেখানে স্বাক্ষর করেন, সেখানে নাম উল্লেখ করলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে যেখানে স্বাক্ষর করেছেন, সেখানে নাম উল্লেখ করেননি।

বীমা কোম্পানির ‘মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা ২০১২ ’এর শর্তানুসারে, মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ পেতে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যূন ৩ বছর মেয়াদী স্নাতক ও ১ বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক ও সমমানের ডিগ্রির অধিকারী হতে হয়। তবে শিক্ষাগত এ যোগ্যতা নেই ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের।

আইডিআরএ’র কাছে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৃতীয় বিভাগে দু’বছরের বিএসএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আর এমবিএ করেছেন বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

তথ্য অনুসারে, তিনি ১৯৯৬ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত পলাশ শিল্পাঞ্চল কলেজ থেকে তৃতীয় বিভাগে বিএসএস পাস করেন। তিনি জুলাই ১৯৯৪ থেকে জুন ১৯৯৬ পর্যন্ত স্নাতক শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। পরে ২০১০ সালে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি মাস্টার্স অব বিজনেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ডিগ্রি লাভ করেন।

এতে স্পষ্ট হয়, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রবিধানে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের।

এদিকে আলোচনা চলছে স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ নিয়ে নিয়ে। কোম্পানিটির অর্গানোগ্রামে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পর দ্বিতীয় সারিতে অথবা (/) চিহ্ন দিয়ে তিনটি পদের উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমে রয়েছে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এরপরেই রয়েছে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং শেষে উল্লেখ করা হয়েছে প্রকল্প পরিচালক পদ।

অথচ বীমা কোম্পানিটির কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ওই তিনটি পদের জন্য ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা থাকে যেমন ভিন্ন ভিন্ন, তেমনি বেতন-ভাতার পরিমাণও নির্ধারণ করা হয় আলাদা। স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নিয়োগ ও পদোন্নতির তথ্য যাচাই করেও পাওয়া গেছে এর সত্যতা।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে দাখিল করা স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এই অর্গানোগ্রাম তৈরি করা হয়েছে ২০২০ সালের ১২ জুলাই। কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান, ডিজিএম (কোম্পানি সচিব) মো. আব্দুল খালেক এবং এজিএম (এইচআর) মো. সাজিদ হোসেন নতুন এই অর্গানোগ্রামে স্বাক্ষর করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের বীমাখাতে ওই তিনটি পদকে একইসঙ্গে সমমানের ধরা হয় না। চর্চা অনুসারে, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৃতীয় এবং প্রকল্প পরিচালক পদের অবস্থান চতুর্থ।

‘মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা ২০১২’ এর শর্তানুসারে, মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ পেতে একই ধরনের কোনো কোম্পানির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে অন্যূন তিন বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। কিন্তু কর্ম অভিজ্ঞতার এই শর্ত পূরণ করেননি ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন। কোম্পানির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে তার কর্ম অভিজ্ঞতা রয়েছে ১১ মাস ৮ দিন।

তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালের ৪ মার্চ এক চিঠিতে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে স্বদেশ লাইফ জানায়—কোম্পানির ২৮তম বোর্ড সভায় তাকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পদোন্নতিসহ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন বৃদ্ধি করে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ওই চিঠিতে (সূত্র: স্বলাইকো/এইচআর/পি-১৭৬/৯৫/২০১৯) স্বাক্ষর করেন।

২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে স্বদেশ লাইফ কর্তৃপক্ষ ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে তার মাসিক বেতন ধরা হয় দেড় লাখ টাকা এবং ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হবে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।

এই হিসেবে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ পেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের কর্ম অভিজ্ঞতা রয়েছে ১১ মাস আট দিন; অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদকে কোম্পানিটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ ধরে এই হিসাব করা হয়েছে। অর্থাৎ মুখ্য নির্বাহী নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা ২০১২’তে নির্ধারিত কর্ম অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করেননি ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন।

মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার নিম্নতম পদে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের তিন বছরের অভিজ্ঞতার বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান। গত ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এই প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করা হয়।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ গত ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডিএমডি) পদোন্নতিসহ কোম্পানির ২৭তম সভায় তাকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) চলতি দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যার অনুমোদনের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পত্র লেখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অথচ তাকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পদোন্নতিসহ বেতন বৃদ্ধি করা হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। কোম্পানির ২৮তম বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যা ২০১৯ সালের ৪ মার্চ দেয়া চিঠিতে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে জানায় স্বদেশ লাইফ। চিঠির স্মারক নম্বর- স্বলাইকো/এইচআর/পি-১৭৬/৯৫/২০১৯।

স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিনকে সম্বোধন করা হয় ‘উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব)’ হিসেবে। ওই চিঠির অনুলিপি কোম্পানির চেয়ারম্যান, হিসাব বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ফাইলের জন্যও পাঠানো হয়।

মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ’র নির্ধারিত চেক লিস্ট পূরণ করে প্রয়োজনীয় দলিলাদিসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব পাঠাতে হয়। বিধান অনুসারে অসম্পূর্ণ আবেদন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে না। অথচ ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ অনুমোদনের আবেদন জমা দেয়ার সাড়ে তিন মাস পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে।

তথ্য অনুসারে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের নিয়োগ অনুমোদনের আবেদন করা হয় ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। অথচ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা হয় প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ২০২০ সালের ২ জুন।

ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের নিয়োগ অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয় ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২ জুন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদসহ ৯ ধরনের কাগজপত্র দাখিল করা সংক্রান্ত একটি নথি দেয়া হয়। অথচ দাখিল করা এসব কাগজপত্র সত্যায়িত দেখানো হয় ২০২০ সালের ৮ জুলাই। আবার ১৭ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা কাগজপত্রের সঙ্গে চুক্তিপত্র দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ ওই চুক্তিপত্র ২০২০ সালের ৮ জুলাই স্বাক্ষর করেন ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন।

ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন আইডিআরএ’ কাছে দাবি করেন, তার বিএসএস পাসের সনদ হারিয়ে গেছে। হারানোর এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও আপত্তি তোলেন আইডিআরএ’র কর্মকর্তারা। এরপরও নিয়োগ অনুমোদন সংক্রান্ত পত্রে বিএসএস পাসের হারিয়ে যাওয়া ওই সনদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার এক মাস পরে দাখিলের শর্ত দেয়া হয়। অথচ হারিয়ে যাওয়া সনদ তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সম্পর্ক নেই। কোভিড-১৯ এর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলেও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক অফিস খোলা রয়েছে। ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ পরে দাখিলের শর্তে নিয়োগ অনুমোদন করা প্রশ্নবিদ্ধ।

সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘২৪ বছরেও আমার হারানো শিক্ষা সনদ তুলতে না পারার বিষয়টি পুরানো কথা। আমি আগে সিইও ছিলাম না, অতিরিক্ত সিইও পর্যন্ত ৮ (অষ্টম শ্রেণী) সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি করা যায়। এ কারণে আমার বিএসএস সার্টিফিকেট দরকার হয়নি।’

এখন কি সব সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ভাই আমার সব সার্টিফিকেট নয়, আমার শুধু বিএ পাস অর্থাৎ বিএসএসের মূল সনদ দেয়নি।’

আপনি তো আবেদনের সময় উল্লেখ করেছেন সব সনদ জমা দেয়া হয়েছে, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনার কিছু জানার থাকলে আইডিআরএ’র কাছ থেকে জানেন।’ এই বলে তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য পেতে আইডিআরএ কার্যালয় এবং তার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তার কোনো সাড়া মেলেনি।

সুত্রঃ জাগো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *