ইজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেবে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট

স্টাফ রিপোর্ট

এমিরেটস সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড ও এমিরেটস পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড একীভূতকরণ স্কিমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির ২৫৫তম পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হাইডেলবার্গ সিমেন্টের ইজিএম আগামী ২ মে সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কোম্পানিটির কারখানা ও রেজিস্টার্ড অফিসে অনুষ্ঠিত হবে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ মার্চ।

সম্প্রতি এমিরেটস সিমেন্ট ও এমিরেটস পাওয়ার একীভূতকরণের বিষয়ে উচ্চ আদালতের অনুমোদন পেয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। সূত্র অনুযায়ী, একীভূতকরণ স্কিমে অনুমোদন পেতে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, এমিরেটস সিমেন্ট ও এমিরেটস পাওয়ার ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২২৮ ও ২২৯ ধারার অধীনে উচ্চ আদালত বরাবর যৌথভাবে আবেদন করে। উচ্চ আদালত সেই আবেদনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে অনুমোদন দেন।

২০১৯ সালের নভেম্বরে আল্ট্রাটেক সিমেন্ট মিডল ইস্ট ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কাছ থেকে এমিরেটস সিমেন্ট ও এমিরেটস পাওয়ারের শতভাগ শেয়ার কিনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। এক্ষেত্রে মূল্য ধরা হয় ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৪ ডলার বা ১৮২ কোটি ৫৮ লাখ ৬০ হাজার ৩৮৪ টাকা।

গত বছরের অক্টোবরে হাইডেলবার্গের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানি দুটিকে একীভূতকরণের খসড়া স্কিমে অনুমোদন দেয়। এ ধরনের স্কিম চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে হাইকোর্ট ও শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উচ্চ আদালতের অনুমোদন লাভের পর এবার ইজিএম আয়োজনের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট।

২০১০ সালে ভারতীয় আদিত্য বিরলা গ্রুপ কর্তৃক ইটিএ স্টার সিমেন্টকে অধিগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে আল্ট্রাটেক সিমেন্টের উৎপাদন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আদিত্য বিরলা গ্রুপ বাংলাদেশে এমিরেটস সিমেন্ট নামে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করে কার্যক্রম চালায়। এমিরেটস সিমেন্টের মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে একটি গ্রাইন্ডিং প্লান্ট রয়েছে। অন্যদিকে কাঁচপুর ও চট্টগ্রামে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের দুটি গ্রাইন্ডিং প্লান্ট রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সিমেন্টের বাজারে একসময় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রাধান্য ছিল। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়েও দেশের চাহিদা ৯৫ শতাংশ সিমেন্ট আমদানির মাধ্যমে মেটানো হতো। কিন্তু সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এরপর থেকেই স্থানীয় উদ্যোক্তারা সিমেন্ট খাতে বিনিয়োগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে এসে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সিমেন্টের বাজারের দখল নিয়ে নেয় স্থানীয় উৎপাদকরা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এমিরেটস সিমেন্ট বাংলাদেশে ব্যবসায়িকভাবে চাপে পড়ে যায়। এতে তারা বাংলাদেশের বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে। অন্যদিকে স্থানীয় উৎপাদকদের আগ্রাসী ব্যবসায়িক কৌশলের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাওয়া হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাজারে নিজেদের হিস্যা ধরে রাখতে ব্যবসা সম্প্রসারণে নজর দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তারা বাংলাদেশে এমিরেটস সিমেন্ট ও পাওয়ারকে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত বছর মেঘনা এনার্জি লিমিটেডকেও অধিগ্রহণ করে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। মেঘনা এনার্জির ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ বা ৪০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৭টি শেয়ার প্রিমিয়ামসহ কিনতে কোম্পানিটির ব্যয় হয়েছে ৯১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ধরা হয় ১০০ টাকা। আর প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয় ১২৪ টাকা ৫২ পয়সা।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) হাইডেলবার্গ সিমেন্টের সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ২ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১৭ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৫৩ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৮ টাকা ৮৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ৭৫ টাকা ৩৫ পয়সা।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। প্রথমবারের মতো কোনো হিসাব বছরে কোম্পানিটি লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৩০ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ১৪ টাকা ৩৩ পয়সা। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৭১ টাকা ৮৮ পয়সা, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৮২ টাকা ৬৮ পয়সা।

২০১৮ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। ২০১৭ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *